সংবাদ শিরোনাম :
Logo পোশাক শিল্পের প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর Logo গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা, একজন কারাগারে Logo আন্দোলনে দিল্লি পুলিশের ‘বাড়াবাড়ি’, ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের Logo পাবনা জেলা যুবদল সদস্য কেরামত আলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ Logo নওগাঁয় ৩ জন কুখ্যাত আন্ত:জেলা গরু চোর গ্রেপ্তার: ৫ চোরাই গরু উদ্ধার Logo সংবিধান সংশোধনে জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন Logo ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনেএকতা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, ঢাকার সাথে উত্তরাঞ্চলের রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ Logo আসুন আমরা মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি ,দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo ‘আমরা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছি’, বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প Logo পানিবন্দি মানুষের জন্য সব ধরনের সহায়তার ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার : ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

আর কোনো স্বৈরাচার যেন পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৭:৫০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ১২ বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আর কোনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আসুন আজ আমরা আবারও নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।

রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আনন্দঘন আয়োজনে এতক্ষণ আপনাদের বর্ণিল প্যারেড সবাই উপভোগ করেছি। আমার কাছে এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা মনে হয়নি বরং এটি ছিল পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা, দায়িত্ববোধ এবং সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলার অবিচল অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার এক রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার। বছরের পর পর ধরে অসংখ্য হামলা মামলার শিকার, নির্যাতিত নিপীড়িত অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে শান্তি এবং নিরাপত্তা চায়। দেশের জনগণের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের কার্যক্রম অর্থাৎ পুলিশের ভূমিকার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা জনগণের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য এবং সামর্থের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন। এটিই আপনাদের কাছে সরকারের প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন সম্ভব। শুধু দেশেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা এবং সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জাতিসংঘের শান্তি মিশনে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

শুধু বিদেশেই নয়, দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, একদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার ‘উই রিভোল্ট’, অপরদিকে ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধ। এরপর স্বাধীনতার লড়াই থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের পিছিয়ে থাকার আর কোনো সুযোগ ছিল না। তবে মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রজন্ম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্ম, আমরা যারা ইতিহাস পড়ে কিংবা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা শুনে, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জেনেছি, তাদের মনে মুক্তিযুদ্ধকালীন ইতিহাস নিয়ে এখনো কিছু প্রশ্ন হয়তো রয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে যখন স্বাধীনতাকামি মানুষের মনে টান টান উত্তেজনা, তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে যখন ঢাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য জড়ো করা হচ্ছিল, এমন পরিস্থিতিতে সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একসঙ্গে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী যুক্তি বা কৌশল কাজ করেছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যারা এখনো গবেষণা করে চলছেন, এটি এখনো তাদের জন্য একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে বলে আমি মনে করি।

Facebook Comments Box
শেয়ার করুন:
ট্যাগস :

আর কোনো স্বৈরাচার যেন পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:৫০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আর কোনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আসুন আজ আমরা আবারও নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।

রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আনন্দঘন আয়োজনে এতক্ষণ আপনাদের বর্ণিল প্যারেড সবাই উপভোগ করেছি। আমার কাছে এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা মনে হয়নি বরং এটি ছিল পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা, দায়িত্ববোধ এবং সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলার অবিচল অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার এক রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে জনগণের রায়ে গঠিত বর্তমান সরকার। বছরের পর পর ধরে অসংখ্য হামলা মামলার শিকার, নির্যাতিত নিপীড়িত অধিকারহারা মানুষ বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে শান্তি এবং নিরাপত্তা চায়। দেশের জনগণের শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের কার্যক্রম অর্থাৎ পুলিশের ভূমিকার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা জনগণের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য এবং সামর্থের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবেন। এটিই আপনাদের কাছে সরকারের প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন সম্ভব। শুধু দেশেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা এবং সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জাতিসংঘের শান্তি মিশনে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

শুধু বিদেশেই নয়, দেশের জনগণের সঙ্গেও পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, একদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার ‘উই রিভোল্ট’, অপরদিকে ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশের মরণপণ প্রতিরোধ। এরপর স্বাধীনতার লড়াই থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের পিছিয়ে থাকার আর কোনো সুযোগ ছিল না। তবে মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রজন্ম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্ম, আমরা যারা ইতিহাস পড়ে কিংবা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা শুনে, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জেনেছি, তাদের মনে মুক্তিযুদ্ধকালীন ইতিহাস নিয়ে এখনো কিছু প্রশ্ন হয়তো রয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে যখন স্বাধীনতাকামি মানুষের মনে টান টান উত্তেজনা, তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে যখন ঢাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য জড়ো করা হচ্ছিল, এমন পরিস্থিতিতে সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একসঙ্গে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী যুক্তি বা কৌশল কাজ করেছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যারা এখনো গবেষণা করে চলছেন, এটি এখনো তাদের জন্য একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে বলে আমি মনে করি।

Facebook Comments Box
শেয়ার করুন: