সংবাদ শিরোনাম :
Logo পোশাক শিল্পের প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর Logo গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা, একজন কারাগারে Logo আন্দোলনে দিল্লি পুলিশের ‘বাড়াবাড়ি’, ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের Logo পাবনা জেলা যুবদল সদস্য কেরামত আলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ Logo নওগাঁয় ৩ জন কুখ্যাত আন্ত:জেলা গরু চোর গ্রেপ্তার: ৫ চোরাই গরু উদ্ধার Logo সংবিধান সংশোধনে জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন Logo ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনেএকতা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, ঢাকার সাথে উত্তরাঞ্চলের রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ Logo আসুন আমরা মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি ,দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo ‘আমরা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছি’, বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প Logo পানিবন্দি মানুষের জন্য সব ধরনের সহায়তার ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার : ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

রূপপুরের ‘বালিশ কাণ্ড’,

এই দামি বালিশ একটি জাদুঘরে রাখার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

আলমাস আলী ঈশ্বরদি(পাবনা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:২৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ৮৭ বার পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ৩৮টি অডিট প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বহুল আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ড’-সংক্রান্ত দুর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদনও রয়েছে।

২০১৯ সালে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্পের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসিক ভবনের জন্য আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণের ঘটনা সামনে এলে ‘বালিশ কাণ্ড’ ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই সময়ে জানা যায়, প্রকল্পে প্রতিটি বালিশের দাম দেখানো হয় ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। এসব বালিশ ভবনের ওপরে তোলার জন্য আলাদা খরচও দেখানো হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয়েও কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার ( ৫ মে ) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অডিট প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন। এসব প্রতিবেদনের মধ্যে রূপপুরের ‘বালিশ কাণ্ড’-এর তদন্ত প্রতিবেদনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি বালিশের একরকম অবিশ্বাস্য অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য দেখে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, এই দামি বালিশ একটি জাদুঘরে রাখা উচিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুপপুর প্রকল্পের গ্রিন সিটি’ আবাসিক ভবনের জন্য ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় বিভিন্ন ধাপে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেখানে প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে  ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং আর প্রতিটি বালিশ আবাসিক ভবনের খাটে তোলার মজুরি দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। আর কভারসহ একটি কমফোর্টারের ( লেপ বা কম্বলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। যদিও এর বাজারমূল্য সাড়ে চার হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ হাজার টাকার মধ্যে।

একইভাবে একটি বিদেশি বিছানার চাদরের দাম দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ টাকা। এর বাজার মূল্য অবশ্য তিন হাজার টাকা থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। যা বাজারদরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
অডিট প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসিক প্রকল্পের আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে ‘বালিশ কাণ্ড’ দুর্নীতি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই প্রকল্পের আবাসিক ভবনের আসবাবপত্র কেনা ও তা ফ্ল্যাটে ওঠানোর পেছনে অস্বাভাবিক ও দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন রিপোর্টে।

Facebook Comments Box
শেয়ার করুন:

রূপপুরের ‘বালিশ কাণ্ড’,

এই দামি বালিশ একটি জাদুঘরে রাখার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৭:২৬:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ৩৮টি অডিট প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বহুল আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ড’-সংক্রান্ত দুর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদনও রয়েছে।

২০১৯ সালে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্পের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসিক ভবনের জন্য আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণের ঘটনা সামনে এলে ‘বালিশ কাণ্ড’ ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই সময়ে জানা যায়, প্রকল্পে প্রতিটি বালিশের দাম দেখানো হয় ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। এসব বালিশ ভবনের ওপরে তোলার জন্য আলাদা খরচও দেখানো হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয়েও কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার ( ৫ মে ) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অডিট প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন। এসব প্রতিবেদনের মধ্যে রূপপুরের ‘বালিশ কাণ্ড’-এর তদন্ত প্রতিবেদনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি বালিশের একরকম অবিশ্বাস্য অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য দেখে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, এই দামি বালিশ একটি জাদুঘরে রাখা উচিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুপপুর প্রকল্পের গ্রিন সিটি’ আবাসিক ভবনের জন্য ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় বিভিন্ন ধাপে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেখানে প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে  ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং আর প্রতিটি বালিশ আবাসিক ভবনের খাটে তোলার মজুরি দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। আর কভারসহ একটি কমফোর্টারের ( লেপ বা কম্বলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। যদিও এর বাজারমূল্য সাড়ে চার হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ হাজার টাকার মধ্যে।

একইভাবে একটি বিদেশি বিছানার চাদরের দাম দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ টাকা। এর বাজার মূল্য অবশ্য তিন হাজার টাকা থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। যা বাজারদরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
অডিট প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসিক প্রকল্পের আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে ‘বালিশ কাণ্ড’ দুর্নীতি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই প্রকল্পের আবাসিক ভবনের আসবাবপত্র কেনা ও তা ফ্ল্যাটে ওঠানোর পেছনে অস্বাভাবিক ও দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন রিপোর্টে।

Facebook Comments Box
শেয়ার করুন: