তানোরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৭টি গরু ও ২টি শিয়ালের মর্মান্তিক মৃত্যু, দিশেহারা কৃষক
- আপডেট সময় : ০৮:২৭:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ১ বার পঠিত

রাজশাহীর তানোরে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় ঝড়ে নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) একটি খুঁটি হেলে পড়ে। এই খুঁটির সঙ্গে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) লোবাতালা ব্রিজের পূর্ব পাশের একটি গভীর নলকূপের সংযোগ রয়েছে।
সারারাত কৃষিজমিতে এই ছেঁড়া তার ছড়িয়েছিল। ঘটনাটি নেসকো জানতে পারেনি। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এই তার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাতটি গরু ও দুটি শিয়াল মারা গেছে।
নিহত গবাদিপশুর মালিকদের মধ্যে হরিদেবপুর গ্রামের শ্রীমতি তপু বালার দুটি, শ্রীমতি সুধা রানির একটি, সোমাসপুর তালন্দ বাজার এলাকার মোজাফফর হোসেনের একটি, হরিদেবপুর গ্রামের জিতেনের একটি, গীতা রানির একটি এবং তালন্দ বাজার এলাকার মনজুর রহমানের একটি গরু ছিল।
শুক্রবার সারাদিন গরুগুলো ঘটনাস্থলেই পড়ে রয়েছে। কথা হয় গরুর মলিক মোজাফ্ফর হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, তার গরুটি ৮২ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলেন। এখন বিক্রি করলে এক লাখ টাকার বেশি দাম হবে। সাতটা গরুর দাম আট থেকে ১০ লাখ হতে পারে।
তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল ছয়টার দিকে মাঠে গরু ছেড়ে দেন। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তিনি এই ঘটনার খবর পান। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে তার গরুও মরে পড়ে রয়েছে। তারা সবাই মিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ক্ষতিপুরণের অভিযোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।
হরিদেবপুর গ্রামের তপু বালা চোখ মুছতে মুছতে বলেন, এই তাদের সংসার। তারা গরুর ক্ষতিপুরণ চান। একই কথা বলেন, সুধা রানি।
স্থানীয় বাসিন্দা সুকুমার রবিদাস বলেন, ‘রাতের ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়ে তার ছিঁড়ে যায়। সকালে গরুগুলো মাঠে চরতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপুরণ দেওয়া উচিত।
যোগাযোগ করা হলে তানোর নেসকোর আবাসিক (সহকারী) প্রকৌশলী অমিত হাসান আরিফ বলেন, তার খুঁটির ট্রান্সফরমার থেকে বিএমডিএর একটি গভীর নলকূপের সংযোগ দেওয়া ছিল। সেখান থেকে আবার লোলিফট পাম্পে আরেকটি সংযোগ টানা ছিল। ঝড়ে গভীর নলকূপ থেকে সংযোগ তার ছিঁড়ে মাঠে পড়েছিল।
সেচ দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি বলে কেউ খেয়াল করেননি। তারা জানতেও পারেননি। সকালে দুর্ঘটনার পরে তারা জানার সঙ্গে সঙ্গে ওই লাইনের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। পরে লাইন ঠিক করার কাজ চলছে।
জানতে চাইলে বিএমডিএর তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলী নাইমুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের লাইনটি নেসকোর। এ ব্যাপারে তারা বলতে পারবেন। বিএমডিএ তো নেসকোর একজন গ্রাহক মাত্র। তাদের তো এ বিষয়ে কিছু বলার নেই।’
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঝড়েই তার ছিঁড়ে গেল নাকি অন্যকোনো ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়েও তারা অনুসন্ধান করছেন। নেসকোর আঞ্চলিক প্রকৌশলীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। তারাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দিতে আসেননি বলে তিনি জানান।
















