ঈশ্বরদীতে ৩৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা , কৃষি উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
- আপডেট সময় : ১০:০৬:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৩ বার পঠিত

বৈশাখের শুরু থেকেই তীব্র তাপপ্রবাহ ও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রা ৩৫ -৩৮ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠায় কৃষি শ্রমিক ও দিনমজুররা অল্প কাজেই হাঁপিয়ে উঠছেন। এই অসহ্য গরমে মাঠপর্যায়ে কাজ করা শ্রমিকদের ক্লান্তি ও ঘাম বেড়ে যাচ্ছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
বৈশাখের প্রথম দিনেই তীব্র তাপপ্রবাহে বাড়ছে পাবনার ঈশ্বরদী। প্রচণ্ড গরমে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। খরতাপে যেন স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো জনপদ—শহর, গ্রাম, পথঘাট সবখানেই বিরাজ করছে অসহনীয় উত্তাপ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল তিনটায় ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যা ছয়টায় আবহাওয়া অফিস আজকের তাপমাত্রা রেকর্ড করে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলালুর রহমান জানান, গত ৪ এপ্রিল মৌসুমের প্রথম তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও ১২ এপ্রিল থেকে আবার মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়। ওইদিন তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং ১৩ এপ্রিল তা কমে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রিতে নেমে আসে। তাপমাত্রা আবার বেড়ে মঙ্গলবার নববর্ষের দিন ( ১৪ এপ্রিল) ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। আজ ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে আবারও বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল তিনটায় তাপমাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যা সন্ধ্যা ছয়টায় রেকর্ড করা হয় তারপর তার বেড়ে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এই মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও শ্রমিক, কৃষক খাদ্য উৎপাদনে নিয়ে। তপ্ত রোদে কাজ করতে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই হাঁপিয়ে উঠছেন তারা।
শহরের শৈলপাড়া এলাকায় ইট ভাঙার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক শফিকুল আলমকে দেখা যায় মাথায় গামছা বেঁধে, ঘামে ভেজা শরীরে কাজ করছেন। কিছুক্ষণ পরপরই কাজ থামিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘তীব্র গরমে এখন আর আগের মতো টানা কাজ করা যায় না। আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা কাজ করলেই শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই মাঝেমধ্যে মেশিন বন্ধ করে বিশ্রাম নিতে হয়।’
তীব্র গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। ফলে রাস্তাঘাট ফাঁকা, যাত্রী শূণ্য। সড়ক মহাসড়ক রাস্তায় লোক চলাচল কমে যাওয়ায় অটো
রিক্সা, অটো ভ্যান, সিএনজি চালিত বিভিন্ন পরিবহনের ড্রাইভার শফিকুল ইসলাম জানান, দুপুরের দিকে রোদের তীব্রতা বেশি থাকায় গত কয়েকদিন ধরেই মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায তাদের আয় অর্ধেকের নেমেছে।
এদিকে শহরে রাস্তার পাশের দোকানগুলি দিকে তাকালে দেখা যায় তীব্রতা থেকে বাঁচতে পর্দা ঝুলিয়ে দিয়ে দোকান দোকানের সামনে পর্দা ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছেন।কিন্তু এটা ক্রেতা
নেই বললেই চলে। ঈশ্বরদী স্টেশন রোডের মক্কা হার্ডওয়ারের মালিক টোকন বলেন, তারা দোকান খোলা রেখেছেন ঠিকই কিন্তু এটার অভাবে আয় অনেক
কমে গেছে।
শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল বাতেন জানান, তাপপ্রবাহের কারণে পানি শূি ন্যতাসহ বিভিন্ন রোগব্যাধি বাড়তে পারে। তিনি প্রচুর পানি, লেবুর শরবত ও ডাবের পানি পান করার পাশাপাশি সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং ছাতা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বাড়তি নজর রাখার এবং বাইরের খোলা খাবার পরিহার করার কথা বলেছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন,তীব্র তাপদাহের প্রভাবের শ্রমিকদের ও দিনমজুরদের কর্মক্ষমতা হ্রাস পেয়ে দিনের উচ্চ তাপমাত্রায় কাজ করতে পারছেনা।
আবার সরাসরি রোদে কাজ করায় পানিশূন্যতা ও শারীরিক দুর্বলতা বাড়ছে।ভ্যাপসা গরম ও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ঘাম কম শুকায়, ফলে অস্বস্তি আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। বিরুপ আবহাওয়া তিনি কাজ করার সময় বারবার বিরতি নেওয়া এবং প্রচুর পানি বা তরল খাবার খাওয়া, রোদের তীব্রতা বেশি থাকলে দুপুরের সময় কাজ এড়িয়ে চলা।
কৃষি কাজ ও শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষেত্রে টুপি ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।










