সংবাদ শিরোনাম :

সৈয়দপুরে মধ্যরাতের অভিযান বিপুল পরিমানে জ্বালানি তেল শব্দ, আটক-৭

জহুরুল ইসলাম খোকন সৈয়দপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:০৫:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ৯ বার পঠিত

oplus_34

সৈয়দপুরে গোপন সুত্রের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ উদ্ধার করছে পুলিশ। শুক্রবার রাত প্রায় সারে ১১ টার দিকে সৈয়দপুর শহরের মতির মোড় বাইপাস সড়কের মেসার্স রোকেয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে পুলিশ  বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ উদ্ধার করে। ওইসময় অবৈধভাবে দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ ও সরবরাহের অভিযোগে ৬ জনের প্রতিজনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ দিনের জেল দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। একই সাথে পাম্প মালিক আব্দুর রহমানের ছেলে রফিকুলের ২ লাখ টাকা জড়িমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। পরে আটককুতদের স্বীকারোক্তিতে মোট ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
পুলিশ জানায়, রোকেয়া ফিলিং স্টেশন এর মালিক দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই দাহ্য পদার্থের ব্যবসা করে আসছিল। গত শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে ফিলিং স্টেশনটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে পাশের একটি সন্দেহজনক স্থানে তল্লাশি চালালে একটি নোয়া গাড়ি ৫ ব্যারেল অকটেন, একটি কাভারভ্যান ও ৩টি ট্যাকলড়ি ভর্তি প্রট্রোল ২ টি ট্যাকলড়িতে ডিজেলসহ ৩টি ড্রাম ভর্তি ডিজেল পাওয়া যায়। আর সেখান থেকে পাম্পের মালিক আব্দুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম এর নির্দেশে মিরাজ (২৫) রফিকুল (২৬) সাগর( ৩৫) মঈনুদ্দিন (৪৮) জাহাঙ্গীর (৩৫) আলমিজ শেখ (২৫) ও সিরাজ (২৬) লড়ি থেকে তেল বের করে ড্রাম ও ব্যারেলে ভর্তি করার সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
তল্লাশিতে কাভারভ্যানের ভেতরে অবৈধভাবে স্থাপিত মিনি পাম্পের মাধ্যমে অকটেন ও পেট্রোল স্থানান্তরের প্রমাণ মেলে। একই সঙ্গে নোয়া গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহের সরঞ্জাম এবং বিপুল সংখ্যক প্লাস্টিকের জার উদ্ধার করা হয়, যা জ্বালানি স্থানান্তর ও সংরক্ষণে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযান কালে ভুমি কর্মচারী বাদল বলেন ট্যাকলড়ি, কাভার ভ্যান ও মাইক্রোবাস থেকে ৩৯১৭ লিটার পেট্রোল, অকটেন ২৫০ লিটার ও ৩৩৮ লিটার ডিজেল পাওয়া যায়। যার বাজার মুল্য মোট ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪০৭ টাকা। কিন্তু রোকেয়া ফিলিং স্টেশন এর মালিক আব্দুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, তার গাড়ি, ব্যারেল, ও ড্রামে মোট ৩০ লাখ টাকা মুল্যের ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন ছিল। ৩০ লাখ টাকার দাহ্য পদার্থ কিভাবে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪০৭ টাকা মুল্য হয় তা বুঝতে পারছি না। তিনি বলেন আমার বাবার একাধিক পাম্প আছে। ওইসব পাম্পের জন্যই ট্যাকলড়ি ভর্তি তেল রাখা হয়েছিল।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির হোসেন জানান, জব্দকৃত জ্বালানি তেলের পরিমাণ জানা গেছে নিকটস্থ পেট্রোল পাম্পে গিয়ে। জব্দ কৃত গাড়ি থেকে যতটুকু তেল পাওয়া গেছে তাই উল্লেখ করা হয়েছে।
Facebook Comments Box
শেয়ার করুন:
ট্যাগস :

সৈয়দপুরে মধ্যরাতের অভিযান বিপুল পরিমানে জ্বালানি তেল শব্দ, আটক-৭

আপডেট সময় : ০৯:০৫:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সৈয়দপুরে গোপন সুত্রের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ উদ্ধার করছে পুলিশ। শুক্রবার রাত প্রায় সারে ১১ টার দিকে সৈয়দপুর শহরের মতির মোড় বাইপাস সড়কের মেসার্স রোকেয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে পুলিশ  বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ উদ্ধার করে। ওইসময় অবৈধভাবে দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ ও সরবরাহের অভিযোগে ৬ জনের প্রতিজনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ দিনের জেল দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। একই সাথে পাম্প মালিক আব্দুর রহমানের ছেলে রফিকুলের ২ লাখ টাকা জড়িমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। পরে আটককুতদের স্বীকারোক্তিতে মোট ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
পুলিশ জানায়, রোকেয়া ফিলিং স্টেশন এর মালিক দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই দাহ্য পদার্থের ব্যবসা করে আসছিল। গত শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথমে ফিলিং স্টেশনটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে পাশের একটি সন্দেহজনক স্থানে তল্লাশি চালালে একটি নোয়া গাড়ি ৫ ব্যারেল অকটেন, একটি কাভারভ্যান ও ৩টি ট্যাকলড়ি ভর্তি প্রট্রোল ২ টি ট্যাকলড়িতে ডিজেলসহ ৩টি ড্রাম ভর্তি ডিজেল পাওয়া যায়। আর সেখান থেকে পাম্পের মালিক আব্দুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম এর নির্দেশে মিরাজ (২৫) রফিকুল (২৬) সাগর( ৩৫) মঈনুদ্দিন (৪৮) জাহাঙ্গীর (৩৫) আলমিজ শেখ (২৫) ও সিরাজ (২৬) লড়ি থেকে তেল বের করে ড্রাম ও ব্যারেলে ভর্তি করার সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
তল্লাশিতে কাভারভ্যানের ভেতরে অবৈধভাবে স্থাপিত মিনি পাম্পের মাধ্যমে অকটেন ও পেট্রোল স্থানান্তরের প্রমাণ মেলে। একই সঙ্গে নোয়া গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহের সরঞ্জাম এবং বিপুল সংখ্যক প্লাস্টিকের জার উদ্ধার করা হয়, যা জ্বালানি স্থানান্তর ও সংরক্ষণে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযান কালে ভুমি কর্মচারী বাদল বলেন ট্যাকলড়ি, কাভার ভ্যান ও মাইক্রোবাস থেকে ৩৯১৭ লিটার পেট্রোল, অকটেন ২৫০ লিটার ও ৩৩৮ লিটার ডিজেল পাওয়া যায়। যার বাজার মুল্য মোট ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪০৭ টাকা। কিন্তু রোকেয়া ফিলিং স্টেশন এর মালিক আব্দুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, তার গাড়ি, ব্যারেল, ও ড্রামে মোট ৩০ লাখ টাকা মুল্যের ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন ছিল। ৩০ লাখ টাকার দাহ্য পদার্থ কিভাবে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪০৭ টাকা মুল্য হয় তা বুঝতে পারছি না। তিনি বলেন আমার বাবার একাধিক পাম্প আছে। ওইসব পাম্পের জন্যই ট্যাকলড়ি ভর্তি তেল রাখা হয়েছিল।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির হোসেন জানান, জব্দকৃত জ্বালানি তেলের পরিমাণ জানা গেছে নিকটস্থ পেট্রোল পাম্পে গিয়ে। জব্দ কৃত গাড়ি থেকে যতটুকু তেল পাওয়া গেছে তাই উল্লেখ করা হয়েছে।
Facebook Comments Box
শেয়ার করুন: