সংবাদ শিরোনাম :
Logo ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি : তথ্যমন্ত্রী Logo নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo কালবৈশাখী ও ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা জারি, চট্টগ্রামে ভূমিধসের আশঙ্কা Logo ঢাকায় কাল থেকে জেলা প্রশাসক সম্মেলন, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ঈশ্বরদীর বাজারে উঠেছে অপরিপক্ব স্বাদহীন দেশী লিচু, বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে Logo ডিমলায় ২৫কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার Logo রূপপুর প্রকল্পে রুশ নাগরিকের মৃত্যু Logo চট্টগ্রামে নানা কর্মসূচিতে মে দিবস পালিত Logo চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা শেষে পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরতে নেমেছেন জেলেরা

স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬ ১ বার পঠিত

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি।

তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার যে সংস্কৃতি ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে বর্তমান সরকার তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’

আজ শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে ‘গণমাধ্যমের নতুন চ্যালেঞ্জ অপতথ্য: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা রাষ্ট্রকে নতুন করে ‘রিস্টার্ট’ করার সুযোগ পেয়েছি। একটি ভোট ডাকাতির পার্লামেন্ট হঠাৎ করে হাওয়া হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এরপর দেশের জনগণ অবাধ নির্বাচনে ভোট দিয়ে একটি নির্বাচিত সরকারকে বসিয়ে পুনরায় দেশে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সচল করেছে। এই নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আমাদের সামনে চিন্তার নতুন জগত উন্মোচিত করে দিয়েছে।’

গণমাধ্যমের চতুর্থ স্তম্ভ ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম আধুনিক সভ্য রাষ্ট্রের চারটি স্তম্ভের অন্যতম। একটি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য মুক্ত গণমাধ্যম অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ‘তথ্যের অবাধ সরবরাহ এখন আর বড় বাধা নয়, বরং তথ্যের সাথে নিজের রঙের মাধুরী মিশিয়ে সত্যকে আড়াল করার প্রবণতাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সত্যকে বিচিত্র পাত্রে রেখে বিভ্রান্ত করার যে প্রচেষ্টা চলে, তাকে আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।’

অবাধ তথ্য প্রবাহের গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্যের স্বাধীনতা মানে যেমন খুশি তেমন তথ্য প্রচার নয়। অবাধ তথ্যকে অবশ্যই দায়িত্বশীল ও ‘ক্লিন ইনফরমেশন’ (পরিচ্ছন্ন তথ্য) হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অক্সিজেনের অভাবে যেমন মানুষ বাঁচে না, তেমনি তথ্যের অভাবে গণতন্ত্র বাঁচে না। কিন্তু সেই তথ্য যদি দূষিত হয়, তবে তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর।’

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার।

অনুষ্ঠানে বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বর্তমানে ‘অপতথ্য’ বা মিসইনফরমেশন কেবল একটি ডিজিটাল সমস্যা নয়, এটি একটি ভয়াবহ সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ করে ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে এক ধরনের ‘তথ্য সন্ত্রাস’ চলছে, যা মানুষের সম্মান ও অধিকার হরণ করছে।’

তথ্যের বিশৃঙ্খলা বা ‘ইনফরমেশন ডিসঅর্ডার’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণহীন হওয়ার কারণে গুজব ছড়ানোর সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় একাডেমিক গবেষণা ও পেশাদার সাংবাদিকতার সমন্বয় ঘটানো জরুরি।

অনুষ্ঠানে কবি আবদুল হাই শিকদার ‘দৈনিক বাংলা’, ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’ ও ‘টাইমস’-এর মতো পত্রিকাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সরকারের প্রতি সবিনয় আবেদন জানান।

তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলো এক সময় দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবী ও গুণী সাংবাদিকদের কেন্দ্র ছিল, যা বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করা গেলে হাজারো সাংবাদিকের কর্মসংস্থান হবে, যা দেশের সংবাদপত্রের জগতে গুণগত পরিবর্তন আনবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (গ্রেড-১) সৈয়দ আবদাল আহমদ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, পিআইবি’র সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাভিশনের হেড অব নিউজ ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল)।

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন— ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি মুরসালিন নোমানী, বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আল আসাদ (সাঈদ খান)।

সেমিনারে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে দাবি জানান।

Facebook Comments Box
শেয়ার করুন:
ট্যাগস :

স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি : তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১০:০৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি।

তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার যে সংস্কৃতি ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে বর্তমান সরকার তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’

আজ শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে ‘গণমাধ্যমের নতুন চ্যালেঞ্জ অপতথ্য: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা রাষ্ট্রকে নতুন করে ‘রিস্টার্ট’ করার সুযোগ পেয়েছি। একটি ভোট ডাকাতির পার্লামেন্ট হঠাৎ করে হাওয়া হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এরপর দেশের জনগণ অবাধ নির্বাচনে ভোট দিয়ে একটি নির্বাচিত সরকারকে বসিয়ে পুনরায় দেশে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সচল করেছে। এই নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আমাদের সামনে চিন্তার নতুন জগত উন্মোচিত করে দিয়েছে।’

গণমাধ্যমের চতুর্থ স্তম্ভ ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম আধুনিক সভ্য রাষ্ট্রের চারটি স্তম্ভের অন্যতম। একটি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য মুক্ত গণমাধ্যম অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ‘তথ্যের অবাধ সরবরাহ এখন আর বড় বাধা নয়, বরং তথ্যের সাথে নিজের রঙের মাধুরী মিশিয়ে সত্যকে আড়াল করার প্রবণতাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সত্যকে বিচিত্র পাত্রে রেখে বিভ্রান্ত করার যে প্রচেষ্টা চলে, তাকে আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।’

অবাধ তথ্য প্রবাহের গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্যের স্বাধীনতা মানে যেমন খুশি তেমন তথ্য প্রচার নয়। অবাধ তথ্যকে অবশ্যই দায়িত্বশীল ও ‘ক্লিন ইনফরমেশন’ (পরিচ্ছন্ন তথ্য) হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘অক্সিজেনের অভাবে যেমন মানুষ বাঁচে না, তেমনি তথ্যের অভাবে গণতন্ত্র বাঁচে না। কিন্তু সেই তথ্য যদি দূষিত হয়, তবে তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর।’

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার।

অনুষ্ঠানে বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বর্তমানে ‘অপতথ্য’ বা মিসইনফরমেশন কেবল একটি ডিজিটাল সমস্যা নয়, এটি একটি ভয়াবহ সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ করে ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে এক ধরনের ‘তথ্য সন্ত্রাস’ চলছে, যা মানুষের সম্মান ও অধিকার হরণ করছে।’

তথ্যের বিশৃঙ্খলা বা ‘ইনফরমেশন ডিসঅর্ডার’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণহীন হওয়ার কারণে গুজব ছড়ানোর সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় একাডেমিক গবেষণা ও পেশাদার সাংবাদিকতার সমন্বয় ঘটানো জরুরি।

অনুষ্ঠানে কবি আবদুল হাই শিকদার ‘দৈনিক বাংলা’, ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’ ও ‘টাইমস’-এর মতো পত্রিকাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সরকারের প্রতি সবিনয় আবেদন জানান।

তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলো এক সময় দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবী ও গুণী সাংবাদিকদের কেন্দ্র ছিল, যা বর্তমানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করা গেলে হাজারো সাংবাদিকের কর্মসংস্থান হবে, যা দেশের সংবাদপত্রের জগতে গুণগত পরিবর্তন আনবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (গ্রেড-১) সৈয়দ আবদাল আহমদ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, পিআইবি’র সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাভিশনের হেড অব নিউজ ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল)।

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন— ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি মুরসালিন নোমানী, বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আল আসাদ (সাঈদ খান)।

সেমিনারে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে দাবি জানান।

Facebook Comments Box
শেয়ার করুন: