সংবাদ শিরোনাম :

৫ বছর ধরে রংপুর মেডিকেলের মর্গের ফ্রিজ নষ্ট: বরফ দিয়ে রাখা হয় মরদেহ

রংপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৫১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ১০ বার পঠিত
 রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের ফ্রিজগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে প্রায় ৫ বছর ধরে। ফ্রিজ নষ্টের কারনে পলিথিন পেচিয়ে বরফ দিয়ে মর্গের ট্রলিতে রাখা হয় মরদেহগুলো। ফ্রিজ নষ্ট থাকায় বেওয়ারিশ মরদেহগুলো মর্গে দীর্ঘদিন থাকায় প্রায় সময় পচন ধরে। ফলে প্রচণ্ড দুর্গন্ধে মর্গের আশপাশ দিয়ে চলাচল করা দায় হয়ে পরে। এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন অনেক ভুক্তভোগির পরিবার।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটিতে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রতিদিন এ হাসপাতালে ৭ থেকে ৮ জন রোগী মারা যায়। অনেক সময় মারা যাওয়া বেওয়ারিশ ও মামলা সংক্রান্ত কারণে অনেক মরদেহ হাসপাতালের ডেথ হাউজ বা হিমঘরের ফ্রিজে মাসের পর মাস রাখতে হয়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিচতলার পশ্চিম কোণে অবস্থিত ডেথ হাউজ বা মর্গে ফ্রিজ রয়েছে চার টি। প্রায় ৫ বছর ধরে ফ্রিজগুলো নষ্ট। মাঝে দুই একবার মেরামত করা হলেও তা কিছুদিনের মধ্যে আবারো নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে সব কটি ফ্রিজই নষ্ট হয়ে পরে আছে। ফলে বর্তমানে পলিথিন পেচিয়ে বরফ দিয়ে মর্গের ট্রলিতে রাখা হয় মরদেহগুলো। অনেক সময় বেওয়ারিশের কারনে মর্গে দীর্ঘদিন খোলা থাকায় প্রায় সময় পচন ধরে সেই মরদেহের। ফলে প্রচণ্ড দুর্গন্ধে মর্গের আশপাশ দিয়ে চলাচল করা দায় হয়ে পরে। দুর্গন্ধের কারনে হাসপাতাল কর্মী, রোগী ও স্বজনরা খুবই বিরক্ত।
 গত ১৫ মার্চ অসুস্থ্য জনিত কারণে কবি ও সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান নিজামী মারা গেলে মর্গে রাখা হয় তার মরদেহ। সেই মরদেহ পলিথিনে পেচিয়ে রাখা হয় ট্রলিতে। এ নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনা নিয়ে কবি ধ্রবক রাজ বলেন, কবি ও সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান নিজামী মারা গেলে তার মরদেহ রাখতে গিয়ে দেখি মর্গের ফ্রিজ সব নষ্ট। পরে বরফ কিনে এনে বাধ্যহয়ে পলিথিনে পেচিয়ে রাখা হয়। দুইদিনে দুইবার বরফ কিনে আনা হয়েছিলো। উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ একটা হাসপাতাল অথচ সেই হাসপাতালের মর্গের ফ্রিজ নষ্ট দীর্ঘদিন ধরে। এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যাথা নাই।

আক্ষেপ প্রকাশ করে সাংবাদিক আশরাফ আলী কিরণ বলেন, মর্গের সব ফ্রিজ নষ্ট বছরের পর বছর ধরে। অথচ সেগুলো মেরামত কিংবা সেখানে নতুন ফ্রিজের ব্যবস্থা করার কোন উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। যা খুবই দুঃখজনক ঘটনা।

হাসপাতালের কর্মচারী সেলিম হোসেন কামাল বলেন, মর্গের ফ্রিজগুলো প্রায়ই নষ্ট থাকে। পুরনো হওয়ায় এবার সব ফ্রিজ নষ্ট হয়ে গেছে। ফ্রিজ নষ্ট হওয়ার বিষয়টি আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনেক আগেই জানিয়েছি। ফ্রিজ নষ্টের কারনে অনেক মরদেহ বরফ দিয়ে রাখা হয়। তারপর অনেক সময় গন্ধ ছড়ায়। মর্গে প্রবেশ করাই কষ্টকর হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান দৈনিক বায়ান্নর আলোর প্রতিনিধিকে জানান, পোষ্টমর্টেমের জন্য মরদেহ রাখা হয় কলেজের ফ্রিজে। এছাড়া বেওয়ারিশ ও মামলা সংক্রান্ত কারণে অনেক মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা। সেই মরদেহগুলো বরফ দিয়ে ফ্রিজে রাখা হয়। মর্গের নষ্ট ফ্রিজ কয়েকদফায় মেরামত করে সচল রাখা হলেও কয়েকদিন পর আবারো নষ্ট হয়ে যায়। ফ্রিজের বিষয়ে ঢাকায় জানানো হয়েছে। এ নিয়ে কয়েকবার ঢাকায় চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। ঢাকায় যোগাযোগ করে যতদ্রুত সম্ভব মর্গের ফ্রিজের বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।
Facebook Comments Box
শেয়ার করুন:

৫ বছর ধরে রংপুর মেডিকেলের মর্গের ফ্রিজ নষ্ট: বরফ দিয়ে রাখা হয় মরদেহ

আপডেট সময় : ০৭:৫১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
 রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের ফ্রিজগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে প্রায় ৫ বছর ধরে। ফ্রিজ নষ্টের কারনে পলিথিন পেচিয়ে বরফ দিয়ে মর্গের ট্রলিতে রাখা হয় মরদেহগুলো। ফ্রিজ নষ্ট থাকায় বেওয়ারিশ মরদেহগুলো মর্গে দীর্ঘদিন থাকায় প্রায় সময় পচন ধরে। ফলে প্রচণ্ড দুর্গন্ধে মর্গের আশপাশ দিয়ে চলাচল করা দায় হয়ে পরে। এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন অনেক ভুক্তভোগির পরিবার।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটিতে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রতিদিন এ হাসপাতালে ৭ থেকে ৮ জন রোগী মারা যায়। অনেক সময় মারা যাওয়া বেওয়ারিশ ও মামলা সংক্রান্ত কারণে অনেক মরদেহ হাসপাতালের ডেথ হাউজ বা হিমঘরের ফ্রিজে মাসের পর মাস রাখতে হয়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিচতলার পশ্চিম কোণে অবস্থিত ডেথ হাউজ বা মর্গে ফ্রিজ রয়েছে চার টি। প্রায় ৫ বছর ধরে ফ্রিজগুলো নষ্ট। মাঝে দুই একবার মেরামত করা হলেও তা কিছুদিনের মধ্যে আবারো নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে সব কটি ফ্রিজই নষ্ট হয়ে পরে আছে। ফলে বর্তমানে পলিথিন পেচিয়ে বরফ দিয়ে মর্গের ট্রলিতে রাখা হয় মরদেহগুলো। অনেক সময় বেওয়ারিশের কারনে মর্গে দীর্ঘদিন খোলা থাকায় প্রায় সময় পচন ধরে সেই মরদেহের। ফলে প্রচণ্ড দুর্গন্ধে মর্গের আশপাশ দিয়ে চলাচল করা দায় হয়ে পরে। দুর্গন্ধের কারনে হাসপাতাল কর্মী, রোগী ও স্বজনরা খুবই বিরক্ত।
 গত ১৫ মার্চ অসুস্থ্য জনিত কারণে কবি ও সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান নিজামী মারা গেলে মর্গে রাখা হয় তার মরদেহ। সেই মরদেহ পলিথিনে পেচিয়ে রাখা হয় ট্রলিতে। এ নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনা নিয়ে কবি ধ্রবক রাজ বলেন, কবি ও সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান নিজামী মারা গেলে তার মরদেহ রাখতে গিয়ে দেখি মর্গের ফ্রিজ সব নষ্ট। পরে বরফ কিনে এনে বাধ্যহয়ে পলিথিনে পেচিয়ে রাখা হয়। দুইদিনে দুইবার বরফ কিনে আনা হয়েছিলো। উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ একটা হাসপাতাল অথচ সেই হাসপাতালের মর্গের ফ্রিজ নষ্ট দীর্ঘদিন ধরে। এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যাথা নাই।

আক্ষেপ প্রকাশ করে সাংবাদিক আশরাফ আলী কিরণ বলেন, মর্গের সব ফ্রিজ নষ্ট বছরের পর বছর ধরে। অথচ সেগুলো মেরামত কিংবা সেখানে নতুন ফ্রিজের ব্যবস্থা করার কোন উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। যা খুবই দুঃখজনক ঘটনা।

হাসপাতালের কর্মচারী সেলিম হোসেন কামাল বলেন, মর্গের ফ্রিজগুলো প্রায়ই নষ্ট থাকে। পুরনো হওয়ায় এবার সব ফ্রিজ নষ্ট হয়ে গেছে। ফ্রিজ নষ্ট হওয়ার বিষয়টি আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনেক আগেই জানিয়েছি। ফ্রিজ নষ্টের কারনে অনেক মরদেহ বরফ দিয়ে রাখা হয়। তারপর অনেক সময় গন্ধ ছড়ায়। মর্গে প্রবেশ করাই কষ্টকর হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান দৈনিক বায়ান্নর আলোর প্রতিনিধিকে জানান, পোষ্টমর্টেমের জন্য মরদেহ রাখা হয় কলেজের ফ্রিজে। এছাড়া বেওয়ারিশ ও মামলা সংক্রান্ত কারণে অনেক মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা। সেই মরদেহগুলো বরফ দিয়ে ফ্রিজে রাখা হয়। মর্গের নষ্ট ফ্রিজ কয়েকদফায় মেরামত করে সচল রাখা হলেও কয়েকদিন পর আবারো নষ্ট হয়ে যায়। ফ্রিজের বিষয়ে ঢাকায় জানানো হয়েছে। এ নিয়ে কয়েকবার ঢাকায় চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। ঢাকায় যোগাযোগ করে যতদ্রুত সম্ভব মর্গের ফ্রিজের বিষয়টি সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।
Facebook Comments Box
শেয়ার করুন: