কালিজিরার কালোহীরার স্বপ্নে বিভোর ঈশ্বরদীর কৃষক
- আপডেট সময় : ১০:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২৬১ বার পঠিত

উপজেলার কৃষি কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পৌর এলাকা ও সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে সাঁড়া ইউনিয়নের গোপালপুর, মাজদিয়া, আরামবাডিয়া এবং বাকি ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ১৫ হেক্টর জমিতে কালোজিরার চাষ হয়েছে। যা আজ থেকে পাঁচ বছর আগে এই উপজেলাতে কালা কালো কালো জিরার আবাদ হয়েছিল মাত্র ৬ হেক্টর জমিতে। চাষিরা ভালো দাম পাওয়ায় এবং কম খরচে লাভজনক আবাদ হওয়ায় এবার উপজেলায় দ্বিগুণেরও বেশি জমিতে কালোজিরার আবাদ হয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় হতে কালোজিরা চাষ শুরু হয়। মার্চ মাসের শেষে অথবা এপ্রিলের শুরুর দিকে শুরু হয় ফসল কর্তণ। প্রতি বিঘায় চার মণ কালোজিরা উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রতি মণ কালোজিরার বাজার মূল্য ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা।
উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের কৃষক মো : শহিদুল ইসলাম আন্টু বলেন, এ বছর এক বিঘা জমিতে কালোজিরা চাষ করেছিলাম। এতে ব্যয় হয়েছে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। চার মণ কালোজিরা উৎপাদন হয়েছে। প্রতি মণ কালোজিরা বিক্রি করে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এতে চার মন কালোজিরা বিক্রি হয়েছে ৪৮ হাজার টাকা। ১০ হাজার টাকা খরচ বাদ দিলেও তার লাভ হয়েছে ৩৮ হাজার টাকা।
একই ইউনিয়নের একই গ্রামের প্রতিবন্ধী কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “কালোজিরা চাষ একটি লাভজনক ফসল। এ বছর উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে পাওয়া রাসায়নিক সার ও বীজ নিয়ে কালোজিরা চাষ করেছিলাম। ফলন ভাল হয়েছে।”
উপজেলার আড়মবাড়িয়া ব্লকের দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল আলীম বলেন, কালোজিরার জমি চাষ, বীজ বপণ, সার ও কীটনাশক প্রদান, আগাছা দমন, ফসল কর্তণ ও সংগ্রহ করতে প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়ে থাকে। বীজ বপনের সর্বোচ্চ ১৩০ থেকে ১৫০ দিনের মধ্যে কৃষকরা এ ফসল ঘরে তুলতে পারেন। বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকরা ক্রমশ এ ফসল চাষে ঝুঁকছেন।
ঈশ্বরদী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রহল্লাদ কুমার কুন্ডু বলেন, রবি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৫ হেক্টর জমিতে কালোজিরার চাষ হয়েছে। এখানকার মাটি কালোজিরা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর কালোজিরার বাম্পার ফলন হয়েছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, কালোজিরা আবাদ বর্তমানে ঈশ্বরদীর কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক একটি কৃষি উদ্যোগে পরিণত হয়েছে, যেখানে স্বল্প উৎপাদন খরচে দ্বিগুণ বা তার বেশি লাভ পাওয়া যাচ্ছে।রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় উৎপাদন ঝুঁকি কম এবং বাজারে দাম ভালো থাকায় ফসলটি কৃষকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
অতি সম্প্রতি ( ৯ এপ্রিল) এক কৃষক কৃষাণী সমাবেশে কালোজিরার গুণাগুন বর্ণনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি পাবনার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান ) কৃষিবিদ নূরে আলম বলেন, কালোজিরা আয়ুর্বেদীয়, ইউনানী, কবিরাজী ও লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। মশলা জাতীয় এই ফসল পাঁচ ফোড়নের একটি উপাদান। ভর্তা করেও এটি খাওয়া যায়। এর বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়। কালোজিরাতে ফসফেট, লৌহ ও ফসফরাস জাতীয় উপাদানসহ প্রায় শতাধিক পুষ্টি ও উপকারী উপাদান রয়েছে।
এ ছাড়া ক্যানসার প্রতিরোধক, বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকারী এবং অম্লরোগের প্রতিষেধক। কালোজিরা খাদ্যাভাসের ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কালোজিরা ফুলের মধু উৎকৃষ্ট হিসেবে বিশ্বব্যাপী বিবেচিত। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসে কালোজিরার ফুল ফোটে, তখন মৌমাছিরা এর মধু সংগ্রহ করে। এই মধুতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে। কালোজিরার তেল শরীরের জন্য অনেক উপকারী। বর্তমানে কালিজিরা ক্যাপসুলও বাজারে পাওয়া যায়।

















