সংবাদ শিরোনাম :
Logo ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান Logo স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি : তথ্যমন্ত্রী Logo নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo কালবৈশাখী ও ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তা জারি, চট্টগ্রামে ভূমিধসের আশঙ্কা Logo ঢাকায় কাল থেকে জেলা প্রশাসক সম্মেলন, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo ঈশ্বরদীর বাজারে উঠেছে অপরিপক্ব স্বাদহীন দেশী লিচু, বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে Logo ডিমলায় ২৫কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার Logo রূপপুর প্রকল্পে রুশ নাগরিকের মৃত্যু Logo চট্টগ্রামে নানা কর্মসূচিতে মে দিবস পালিত Logo চাঁদপুরে নিষেধাজ্ঞা শেষে পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরতে নেমেছেন জেলেরা

তিস্তার বালুচর এখন কৃষকের কোটি টাকার ফসলের স্বপ্ন

জহুরুল ইসলাম খোকন সৈয়দপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:৫০:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ৬৫ বার পঠিত
একসময় যে তিস্তা নদী কেড়ে নিয়েছিল কৃষকের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি আর জীবিকার শেষ সম্বল ‌,আজ সেই তিস্তার বুকেই জেগে উঠেছে কৃষকদের নতুন আশার ঠিকানা। নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এখন সবুজের সমারোহ । যেখানে উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় শত কোটি টাকার ফসল।
ডিমলা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টির ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন ও বন্যার মাধ্যমে তীরবর্তী জনপদের মানুষকে করেছে সর্বস্বান্ত। কিন্তু প্রকৃতির সেই বৈরী রূপই বর্তমানে আশীর্বাদ হয়ে ফিরে এসেছে। বর্ষা শেষে নদীর বুকে জেগে ওঠা বিশাল বালুচরগুলো উর্বর কৃষিজমিতে পরিনত হয়েছে।
দেখা গেছে, মাত্র কয়েক মাস আগেও ওই নদীতে ছিল অথই পানি, কিন্তু বর্তমানে সেখানে দিগন্তজোড়া সবুজ ক্ষেত। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পলি আর বালুর স্তর জমে তৈরি হওয়া এই চরগুলোতে কৃষকের চাষাবাদ।
ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার অন্তত ১১টি চরে গম, ভুট্টা, সরিষা, কালোজিরা, আলু, পেঁয়াজ, বাদামসহ বিভিন্ন শাক-সবজি, বাঁধাকপি ও মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হচ্ছে। কম খরচে অধিক লাভজনক এসব ফসল চাষ করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
ওই এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগে জমিগুলো নদীর পানিতে ডুবে থাকত। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ফসল ফলিয়ে ভালো আয় করছি। স্বস্তি ফিরেছে স্বস্তি। একইভাবে সনতেস আলী ও আবেদ আলী জানান, চরাঞ্চলের এই চাষাবাদ তাদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ডিমলা ও জলঢাকা এলাকার প্রায় ৪৪০০ হেক্টর চরাঞ্চলের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ জমিতেই চাষাবাদ হচ্ছে। এসব জমিতে উৎপাদিত ফসলের সম্ভাব্য বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় শত কোটি টাকার মতো।
এ বিষয়ে নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, ডিমলা ও জলঢাকা এলাকার প্রায় ৪৪০০ হেক্টর চরাঞ্চলের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ জমিতে কৃষকরা আবাদ করছেন। এখানে উচ্চমূল্যের বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। আমরা আশা করছি, এসব চর থেকে কৃষকরা প্রায় শত কোটি টাকার ফসল উৎপাদন করতে পারবেন। আমরা নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি। সঠিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে পারলে এই চরাঞ্চল উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।
তিস্তার বুকে জেগে ওঠা এই বালুচরগুলো আর শুধু বালির স্তূপ নয় এগুলো এখন সম্ভাবনার উর্বর জমি। পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এই চরাঞ্চলই হয়ে উঠতে পারে উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির নতুন শক্তি। যে তিস্তা একদিন কেড়ে নিয়েছিল সবকিছু, সেই তিস্তাই বর্তমানে ফিরিয়ে দিচ্ছে নতুন জীবন, নতুন স্বপ্ন।
Facebook Comments Box
শেয়ার করুন:

তিস্তার বালুচর এখন কৃষকের কোটি টাকার ফসলের স্বপ্ন

আপডেট সময় : ১২:৫০:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
একসময় যে তিস্তা নদী কেড়ে নিয়েছিল কৃষকের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি আর জীবিকার শেষ সম্বল ‌,আজ সেই তিস্তার বুকেই জেগে উঠেছে কৃষকদের নতুন আশার ঠিকানা। নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এখন সবুজের সমারোহ । যেখানে উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় শত কোটি টাকার ফসল।
ডিমলা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টির ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন ও বন্যার মাধ্যমে তীরবর্তী জনপদের মানুষকে করেছে সর্বস্বান্ত। কিন্তু প্রকৃতির সেই বৈরী রূপই বর্তমানে আশীর্বাদ হয়ে ফিরে এসেছে। বর্ষা শেষে নদীর বুকে জেগে ওঠা বিশাল বালুচরগুলো উর্বর কৃষিজমিতে পরিনত হয়েছে।
দেখা গেছে, মাত্র কয়েক মাস আগেও ওই নদীতে ছিল অথই পানি, কিন্তু বর্তমানে সেখানে দিগন্তজোড়া সবুজ ক্ষেত। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পলি আর বালুর স্তর জমে তৈরি হওয়া এই চরগুলোতে কৃষকের চাষাবাদ।
ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার অন্তত ১১টি চরে গম, ভুট্টা, সরিষা, কালোজিরা, আলু, পেঁয়াজ, বাদামসহ বিভিন্ন শাক-সবজি, বাঁধাকপি ও মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হচ্ছে। কম খরচে অধিক লাভজনক এসব ফসল চাষ করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
ওই এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগে জমিগুলো নদীর পানিতে ডুবে থাকত। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ফসল ফলিয়ে ভালো আয় করছি। স্বস্তি ফিরেছে স্বস্তি। একইভাবে সনতেস আলী ও আবেদ আলী জানান, চরাঞ্চলের এই চাষাবাদ তাদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ডিমলা ও জলঢাকা এলাকার প্রায় ৪৪০০ হেক্টর চরাঞ্চলের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ জমিতেই চাষাবাদ হচ্ছে। এসব জমিতে উৎপাদিত ফসলের সম্ভাব্য বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় শত কোটি টাকার মতো।
এ বিষয়ে নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, ডিমলা ও জলঢাকা এলাকার প্রায় ৪৪০০ হেক্টর চরাঞ্চলের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ জমিতে কৃষকরা আবাদ করছেন। এখানে উচ্চমূল্যের বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হচ্ছে। আমরা আশা করছি, এসব চর থেকে কৃষকরা প্রায় শত কোটি টাকার ফসল উৎপাদন করতে পারবেন। আমরা নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি। সঠিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে পারলে এই চরাঞ্চল উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।
তিস্তার বুকে জেগে ওঠা এই বালুচরগুলো আর শুধু বালির স্তূপ নয় এগুলো এখন সম্ভাবনার উর্বর জমি। পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এই চরাঞ্চলই হয়ে উঠতে পারে উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির নতুন শক্তি। যে তিস্তা একদিন কেড়ে নিয়েছিল সবকিছু, সেই তিস্তাই বর্তমানে ফিরিয়ে দিচ্ছে নতুন জীবন, নতুন স্বপ্ন।
Facebook Comments Box
শেয়ার করুন: