সংবাদ শিরোনাম :
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লাচ্ছা সেমাই তৈরী, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে সৈয়দপুরের জনপদ
জহুরুল ইসলাম সৈয়দপুর( নীলফামারী) প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ০৫:১৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০ বার পঠিত

ঈদ এলেই রমজান মাসে ব্যস্ত হয়ে ওঠে সেমাই ফ্যাক্টরি গুলো। ব্যস্ততার আড়ালে লুকিয়ে প্রস্তুতকারিরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করছে লাচ্ছা সেমাই। আর এই লাচ্ছা সেমাই খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। ২৪ ফেরুয়ারি রাত সারে ৯টায় সৈয়দপুর শহরের একাধিক এলাকায় গিয়ে এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অস্থায়ী ও মৌসুমি কারখানায় নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি৷ করা হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই। পচা ডিম, দুর্গন্ধযুক্ত চর্বি (এ্যানিমেল ফ্যাট), কৃত্রিম ঘি, নিম্নমানের পামওয়েল ও ডালডা ব্যবহার করে নোংরা পরিবেশে উৎপাদন চলছে পুরোদমে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সৈয়দপুর শহরের খালেক পাম্প সংলগ্ন জুম্মাপাড়া এলাকা, কাজীরহাট, পুরাতন বাবুপাড়া, বাঁশবাড়ী, মিস্ত্রিপাড়া ও গোলাহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে এসব কারখানা। অধিকাংশেরই নেই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর অনুমোদন।
নিয়ম অনুযায়ী সেমাই তৈরির কারখানায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মানসম্মত কাঁচামাল এবং শ্রমিকদের এপ্রোন, হেডকভার ও হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার বাধ্যতামূলক। অথচ অধিকাংশ কারখানায় এসবের বালাই নেই। ঘামভেজা শরীরেই শ্রমিকরা কাজ করছেন; কোথাও কোথাও খোলা মেঝেতে শুকানো হচ্ছে সেমাই।
স্থানীয়রা জানান, প্যাকেটের গায়ে নামিদামি কোম্পানির লেবেল থাকলেও ভেতরের পণ্য নিয়ে সন্দেহ আছে। দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই আকৃষ্ট হয়ে না বুঝে কিনছেন।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তৈরিকৃত সেমাই নামিদামি ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ ভোক্তাদের পক্ষে আসল-নকল পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এসব সেমাই শুধু সৈয়দপুরেই নয়, আশপাশের জেলা ও উপজেলা শহরের হাটবাজারেও পাঠানো হচ্ছে পাইকারিভাবে।
বৈধ ও অনুমোদিত কয়েকটি লাচ্ছা ফ্যাক্টরির মালিক জানান, ভেজাল উৎপাদকদের কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নিয়ম মেনে আমরা মানসম্মত লাচ্ছা সেমাই তৈরী করছি কিন্তু ভেজালকারীদের কারনে আমরা সর্ব শন্ত
হয়ে যাচ্ছি।
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নাজমুল হুদা বলেন, “অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার খেলে পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, এমনকি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি। ভেজাল লাচ্ছা সেমাই বা যে-কোন খাদ্য ভেজাল করিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ্ ফাতিহা তাকলিমা জানান, ভেজাল পণ্য বিক্রির অভিযোগ আমি পেয়েছি।। বাজার মনিটরিংয়ের সময় ব্যবসায়িরা পাশে থাকলে ভেজাল খাদ্য উৎপাদনকারিদের তৎক্ষণাৎ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শামসুল আলম বলেন, “ভেজাল ও অননুমোদিত কারখানার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবারের অভিযানে পুলিশ র্যাব সহ উপজেলা প্রশাসন সাথে থাকবে। কোন রকম অনিয়ম ও নোংরা পরিবেশ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে তাদের জরিমানা সহ কারখানা সিলগালা করে দেয়া হবে।
Facebook Comments Box


















