সংবাদ শিরোনাম :
Logo আত্রাইয়ে বোরো ধান-চাল ও গম সংগ্রহের উদ্বোধন Logo ঈশ্বরদীতে বিষাক্ত কেমিক্যালের গন্ধে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি Logo নওগাঁ চেম্বারের নবায়ন ফি বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ: নির্বাচন দাবিতে প্রশাসকের কাছে ব্যবসায়ীদের আবেদন Logo ঈশ্বরদীতে মালবাহী ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন Logo আমাদের সামর্থ্য সীমাহীন না হলেও নতুন কিছু করা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী Logo নওগাঁয় প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের সাথে ধাক্কা, প্রাণ গেল ২ জনের Logo অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখতে পুলিশের প্রতি নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo আর কোনো স্বৈরাচার যেন পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী Logo কলেজ শিক্ষার্থী ওয়াকিমুলের তৈরি স্মার্ট কারে চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

দক্ষিণ এশিয়ায় বায়দূষণে বছরে প্রায় ১০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু : বিশ্বব্যাংক

সারাবেলা সংবাদ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭ বার পঠিত

দক্ষিণ এশিয়ার ইন্দো–গাঙ্গেয় সমভূমি ও হিমালয়ের পাদদেশ অঞ্চল (আইজিপি–এইচএফ) বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের প্রায় ১০০ কোটি মানুষ প্রতিদিন অস্বাস্থ্যকর বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে। যার ফলে এ অঞ্চলে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে।

গতকাল বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদন ‘আ ব্রেথ অব চেঞ্জ: সলিউশনস ফর ক্লিনার এয়ার ইন দ্য ইন্দো–গাঙ্গেয় প্লেইনস অ্যান্ড হিমালয়ান ফুটহিলস’–এ এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন খাত ও প্রশাসনিক পর্যায়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট উদ্যোগ একযোগে নেওয়া গেলে দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এতে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও আরও শক্তিশালী হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলের পাঁচ দেশের বায়ুদূষণের মূল উৎস পাঁচটি। এগুলো হলো—রান্না ও গরমের জন্য ঘরে কঠিন জ্বালানি পোড়ানো; যথাযথ ফিল্টার প্রযুক্তি ছাড়াই শিল্পকারখানায় জীবাশ্ম জ্বালানি ও বায়োমাসের অদক্ষ ব্যবহার; অকার্যকর অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের ব্যবহার; কৃষিতে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো এবং সার ও পশুবর্জ্য অদক্ষভাবে ব্যবস্থাপনা করা; এবং ঘর ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য পোড়ানো।

প্রতিবেদনটি এমন কিছু সমাধানের কথা তুলে ধরেছে, যেগুলো সহজেই গ্রহণ করা ও বড় পরিসরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎচালিত রান্নাব্যবস্থা; শিল্পকারখানার বয়লার, চুল্লি ও ভাটার বিদ্যুতায়ন ও আধুনিকীকরণ; অ-মোটরচালিত ও বৈদ্যুতিক পরিবহনব্যবস্থা; ফসলের অবশিষ্টাংশ ও পশুবর্জ্যের উন্নত ব্যবস্থাপনা; এবং বর্জ্য আলাদা করা, পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ নিষ্পত্তির উন্নত পদ্ধতি।

প্রতিবেদনটিতে নির্মল বাতাস নিশ্চিত করার জন্য তিনটি সমাধানের কথা বলেছে। এসব সমাধানের উপায় আবার একটি আরেকটির সঙ্গে যুক্ত। প্রথমত, রান্না, শিল্প, পরিবহন, কৃষি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎস পর্যায়ে নির্গমন কমানোর উদ্যোগ। দ্বিতীয়ত, সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা—যার মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে, যাতে পরিষ্কার বাতাসে রূপান্তরের সময় শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সুরক্ষিত থাকে। তৃতীয়ত, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারণী কাঠামো, বাজারভিত্তিক উপকরণ এবং আঞ্চলিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে বহু খাত ও বহু অঞ্চলীয় অগ্রগতি ধরে রাখা।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পরিবেশ অর্থনীতিবিদ মার্টিন হেগার বলেন, ‘এই প্রতিবেদন দেখাচ্ছে যে সমাধান হাতের নাগালেই আছে এবং নীতিনির্ধারক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য সমন্বিত, বাস্তবসম্মত ও প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ বড় পরিসরে বাস্তবায়নের একটি কার্যকর রূপরেখা দিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও কৃষকদের জন্য পরিষ্কার প্রযুক্তি ও পদ্ধতি গ্রহণে শক্ত আর্থিক ও অর্থনৈতিক যুক্তি রয়েছে, আর সরকারগুলোর উচিত এ ক্ষেত্রে তাদের সহায়তা করা।’

দেশগুলোকে এসব সমাধান বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তার জন্য প্রতিবেদনটি ‘চারটি আই’-এর ওপর জোর দিয়েছে। এগুলো হলো: তথ্য (ইনফরমেশন)—পরিকল্পনা ও জবাবদিহির জন্য সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য উপাত্ত; প্রণোদনা (ইনসেনটিভস)—যা মানুষ ও বিনিয়োগকে পরিষ্কার বিকল্পের দিকে উৎসাহিত করবে; প্রতিষ্ঠান (ইনস্টিটিউশনস)—যা সমন্বিত পদক্ষেপ, আইন মানা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় ও স্থানীয় বাস্তবায়নের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে; এবং অবকাঠামো (ইনফ্রাস্ট্রাকচার)—যা পরিষ্কার জ্বালানি, পরিবহন ও বর্জ্য ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক ও দক্ষ শিল্প কার্যক্রম সম্ভব করবে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিবেশবিষয়ক প্র্যাকটিস ম্যানেজার অ্যান জিনেট গ্লাউবার বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন বায়ু অর্জনের জন্য ধারাবাহিক সহযোগিতা, টেকসই অর্থায়ন এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে শক্ত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। সরকারগুলো একসঙ্গে কাজ করলে দূষণ কমানো, লাখো প্রাণ বাঁচানো এবং সবার জন্য পরিষ্কার বাতাস নিশ্চিত করার এই পথ অনুসরণ করা সম্ভব।’

Facebook Comments Box
শেয়ার করুন:
ট্যাগস :

দক্ষিণ এশিয়ায় বায়দূষণে বছরে প্রায় ১০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু : বিশ্বব্যাংক

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

দক্ষিণ এশিয়ার ইন্দো–গাঙ্গেয় সমভূমি ও হিমালয়ের পাদদেশ অঞ্চল (আইজিপি–এইচএফ) বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের প্রায় ১০০ কোটি মানুষ প্রতিদিন অস্বাস্থ্যকর বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে। যার ফলে এ অঞ্চলে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে।

গতকাল বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদন ‘আ ব্রেথ অব চেঞ্জ: সলিউশনস ফর ক্লিনার এয়ার ইন দ্য ইন্দো–গাঙ্গেয় প্লেইনস অ্যান্ড হিমালয়ান ফুটহিলস’–এ এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন খাত ও প্রশাসনিক পর্যায়ে কয়েকটি নির্দিষ্ট উদ্যোগ একযোগে নেওয়া গেলে দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এতে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও আরও শক্তিশালী হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলের পাঁচ দেশের বায়ুদূষণের মূল উৎস পাঁচটি। এগুলো হলো—রান্না ও গরমের জন্য ঘরে কঠিন জ্বালানি পোড়ানো; যথাযথ ফিল্টার প্রযুক্তি ছাড়াই শিল্পকারখানায় জীবাশ্ম জ্বালানি ও বায়োমাসের অদক্ষ ব্যবহার; অকার্যকর অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের ব্যবহার; কৃষিতে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো এবং সার ও পশুবর্জ্য অদক্ষভাবে ব্যবস্থাপনা করা; এবং ঘর ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য পোড়ানো।

প্রতিবেদনটি এমন কিছু সমাধানের কথা তুলে ধরেছে, যেগুলো সহজেই গ্রহণ করা ও বড় পরিসরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎচালিত রান্নাব্যবস্থা; শিল্পকারখানার বয়লার, চুল্লি ও ভাটার বিদ্যুতায়ন ও আধুনিকীকরণ; অ-মোটরচালিত ও বৈদ্যুতিক পরিবহনব্যবস্থা; ফসলের অবশিষ্টাংশ ও পশুবর্জ্যের উন্নত ব্যবস্থাপনা; এবং বর্জ্য আলাদা করা, পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ নিষ্পত্তির উন্নত পদ্ধতি।

প্রতিবেদনটিতে নির্মল বাতাস নিশ্চিত করার জন্য তিনটি সমাধানের কথা বলেছে। এসব সমাধানের উপায় আবার একটি আরেকটির সঙ্গে যুক্ত। প্রথমত, রান্না, শিল্প, পরিবহন, কৃষি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উৎস পর্যায়ে নির্গমন কমানোর উদ্যোগ। দ্বিতীয়ত, সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা—যার মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে, যাতে পরিষ্কার বাতাসে রূপান্তরের সময় শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সুরক্ষিত থাকে। তৃতীয়ত, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারণী কাঠামো, বাজারভিত্তিক উপকরণ এবং আঞ্চলিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে বহু খাত ও বহু অঞ্চলীয় অগ্রগতি ধরে রাখা।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পরিবেশ অর্থনীতিবিদ মার্টিন হেগার বলেন, ‘এই প্রতিবেদন দেখাচ্ছে যে সমাধান হাতের নাগালেই আছে এবং নীতিনির্ধারক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য সমন্বিত, বাস্তবসম্মত ও প্রমাণভিত্তিক উদ্যোগ বড় পরিসরে বাস্তবায়নের একটি কার্যকর রূপরেখা দিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও কৃষকদের জন্য পরিষ্কার প্রযুক্তি ও পদ্ধতি গ্রহণে শক্ত আর্থিক ও অর্থনৈতিক যুক্তি রয়েছে, আর সরকারগুলোর উচিত এ ক্ষেত্রে তাদের সহায়তা করা।’

দেশগুলোকে এসব সমাধান বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তার জন্য প্রতিবেদনটি ‘চারটি আই’-এর ওপর জোর দিয়েছে। এগুলো হলো: তথ্য (ইনফরমেশন)—পরিকল্পনা ও জবাবদিহির জন্য সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য উপাত্ত; প্রণোদনা (ইনসেনটিভস)—যা মানুষ ও বিনিয়োগকে পরিষ্কার বিকল্পের দিকে উৎসাহিত করবে; প্রতিষ্ঠান (ইনস্টিটিউশনস)—যা সমন্বিত পদক্ষেপ, আইন মানা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় ও স্থানীয় বাস্তবায়নের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে; এবং অবকাঠামো (ইনফ্রাস্ট্রাকচার)—যা পরিষ্কার জ্বালানি, পরিবহন ও বর্জ্য ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক ও দক্ষ শিল্প কার্যক্রম সম্ভব করবে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিবেশবিষয়ক প্র্যাকটিস ম্যানেজার অ্যান জিনেট গ্লাউবার বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন বায়ু অর্জনের জন্য ধারাবাহিক সহযোগিতা, টেকসই অর্থায়ন এবং স্থানীয়, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে শক্ত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। সরকারগুলো একসঙ্গে কাজ করলে দূষণ কমানো, লাখো প্রাণ বাঁচানো এবং সবার জন্য পরিষ্কার বাতাস নিশ্চিত করার এই পথ অনুসরণ করা সম্ভব।’

Facebook Comments Box
শেয়ার করুন: