সংবাদ শিরোনাম :
Logo অসুস্থ দুই ছাত্রী রাজশাহীতে ভর্তি, তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন Logo নওগাঁর পোরশায় নছিমনের ধাক্কায় এক ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর নেতা নিহত Logo নওগাঁ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ Logo পদ্মা নদীসহ পানি সংকট মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হওয়ায় ঈশ্বরদীর মানুষ আনন্দিত ও উচ্ছ্বাসিত Logo আত্রাইয়ে বোরো ধান-চাল ও গম সংগ্রহের উদ্বোধন Logo ঈশ্বরদীতে বিষাক্ত কেমিক্যালের গন্ধে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি Logo নওগাঁ চেম্বারের নবায়ন ফি বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ: নির্বাচন দাবিতে প্রশাসকের কাছে ব্যবসায়ীদের আবেদন Logo ঈশ্বরদীতে মালবাহী ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন Logo আমাদের সামর্থ্য সীমাহীন না হলেও নতুন কিছু করা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

পদ্মা নদীসহ পানি সংকট মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হওয়ায় ঈশ্বরদীর মানুষ আনন্দিত ও উচ্ছ্বাসিত

আলমাস আলী ঈশ্বরদি(পাবনা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ ৩৯ বার পঠিত

পদ্মার নদীর উপর নির্মিত ঈশ্বরদীর পাকশী হার্ডিঞ্জ ও লালন শাহ সেতু ও প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজের ছবি। ছবি: সংগৃহীত।

শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট নিরসন, নদী ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন এবং উত্তর,দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারেজ ( প্রথম পর্যায়) প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গতকাল বুধবার ( ১৩ মে)  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়নে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বিএনপি সরকার গঠনের পর তৃতীয় একনেক বৈঠকে এটিই প্রথম মেগা প্রকল্পের অনুমোদন। প্রকল্পের পুরো অর্থায়ন হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। চলতি বছর জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার পর পাবনার ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ আনন্দিত ও উচ্ছ্বাসিত। তাঁরা পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।

প্রকল্পের আওতায় পদ্মা নদীতেও পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তর  দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থায় শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে সেচ, সুপেয় পানি সরবরাহ, নদী পুনরুদ্ধার এবং লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারেজ, ৭৮টি স্পিলওয়ে, নেভিগেশন লক, ফিস পাস এবং নদী শাসন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এছাড়া এর আওতায় গড়াই, চন্দনা ও হিসনা নদী ব্যবস্থার উন্নয়নে ড্রেজিং ও পুনঃখনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৃহত্তর পাবনা, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি বছরে প্রায় ২৩ লাখ ৯০ হাজার টন ধান ও ২ লাখ ৩৪ হাজার টন মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
প্রকল্প থেকে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যারেজের করিডর ব্যবহার করে সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। প্রথম ধাপে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঈশ্বরদীর পাকশী পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকাসহ নদী তীরবর্তী এলাকার কৃষক, মৎস্য চাষী, রাজনীতিবিদ,সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশার মানুষদের মতে, ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের পর থেকে পদ্মা-গঙ্গা নদী ব্যবস্থায় পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পাবনার ঈশ্বরদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকাসহ বিশাল আকারে চর জেগে ওঠে এবং পানি সংকট বেড়ে যায়।

এ অবস্থায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প দেশের পানি নিরাপত্তা, খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা মনে করেন, রাজবাড়ীর পাংশা পয়েন্টই সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে। কারণ সেখানে ব্যারেজ হলে পানি ধারণক্ষমতা বেশি থাকবে এবং এর সুফল বৃহৎ পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে। এতে পাবনাসহ পুরো উত্তর – দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীতে পানির প্রবাহ বাড়বে। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি ফিরলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। পাবনার ঈশ্বরদী অঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, ফলে ধান, পাট, ভুট্টা, গম, সবজি ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে নদী কেন্দ্রিক মৎস্য সম্পদও পুনরুজ্জীবিত হবে। জেলেদের জীবিকা ফিরে আসবে, বাড়বে দেশীয় মাছের উৎপাদন।

এছাড়া পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও উন্নত হবে। বর্তমানে ঈশ্বরদীসহ নদীর তীরবর্তী অনেক এলাকায় গভীর নলকূপেও পানি সংকট দেখা দেয়। ব্যারেজ চালু হলে সেই সংকট অনেকাংশে কমে আসতে পারে। নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, নৌ-যোগাযোগ বৃদ্ধি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং শিল্পকারখানায় পানির ব্যবহারেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পদ্মা নদীতে ব্যারেজ না হলেও পাবনার ঈশ্বরদী অঞ্চলের নদী তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের লাভ কম হবে না বরং সঠিক স্থানে ব্যারেজ হওয়ায় নদীগুলো দীর্ঘমেয়াদে বেশি উপকৃত হবে। শুধু একটি জেলার নয়, পুরো অঞ্চলের টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে।

জানা গেছে, বিএনপি সরকারের  নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের অংশ হিসেবে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যারেজ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বদলে যেতে পারে পাবনা, রাজশাহী ও কুষ্টিয়াসহ ২২ জেলার অর্থনীতি, কৃষি ও মানুষের জীবনযাত্রা। এটি শুধু একটি প্রকল্প নয়, উত্তর-  দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভবিষ্যৎ রক্ষার স্বপ্ন।

কারণ ব্যারেজের অবস্থান রাজবাড়ীতে হলেও এর প্রাণ ফিরে পাবে পাবনার ঈশ্বরদীর পদ্মা নদী  অববাহিত অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি ও অর্থনীতি। এটা বাস্তবায়িত হলে পদ্মা ব্যারেজ হতে পারে উত্তর – দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের বহু বছরের স্বপ্নপূরণের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প।

Facebook Comments Box
শেয়ার করুন:
ট্যাগস :

পদ্মা নদীসহ পানি সংকট মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হওয়ায় ঈশ্বরদীর মানুষ আনন্দিত ও উচ্ছ্বাসিত

আপডেট সময় : ১১:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট নিরসন, নদী ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন এবং উত্তর,দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারেজ ( প্রথম পর্যায়) প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। গতকাল বুধবার ( ১৩ মে)  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়নে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বিএনপি সরকার গঠনের পর তৃতীয় একনেক বৈঠকে এটিই প্রথম মেগা প্রকল্পের অনুমোদন। প্রকল্পের পুরো অর্থায়ন হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। চলতি বছর জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ার পর পাবনার ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ আনন্দিত ও উচ্ছ্বাসিত। তাঁরা পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।

প্রকল্পের আওতায় পদ্মা নদীতেও পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তর  দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থায় শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে সেচ, সুপেয় পানি সরবরাহ, নদী পুনরুদ্ধার এবং লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারেজ, ৭৮টি স্পিলওয়ে, নেভিগেশন লক, ফিস পাস এবং নদী শাসন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এছাড়া এর আওতায় গড়াই, চন্দনা ও হিসনা নদী ব্যবস্থার উন্নয়নে ড্রেজিং ও পুনঃখনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৃহত্তর পাবনা, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি বছরে প্রায় ২৩ লাখ ৯০ হাজার টন ধান ও ২ লাখ ৩৪ হাজার টন মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
প্রকল্প থেকে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যারেজের করিডর ব্যবহার করে সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। প্রথম ধাপে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঈশ্বরদীর পাকশী পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকাসহ নদী তীরবর্তী এলাকার কৃষক, মৎস্য চাষী, রাজনীতিবিদ,সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশার মানুষদের মতে, ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের পর থেকে পদ্মা-গঙ্গা নদী ব্যবস্থায় পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পাবনার ঈশ্বরদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকাসহ বিশাল আকারে চর জেগে ওঠে এবং পানি সংকট বেড়ে যায়।

এ অবস্থায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প দেশের পানি নিরাপত্তা, খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা মনে করেন, রাজবাড়ীর পাংশা পয়েন্টই সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে। কারণ সেখানে ব্যারেজ হলে পানি ধারণক্ষমতা বেশি থাকবে এবং এর সুফল বৃহৎ পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে। এতে পাবনাসহ পুরো উত্তর – দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীতে পানির প্রবাহ বাড়বে। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি ফিরলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে। পাবনার ঈশ্বরদী অঞ্চলের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, ফলে ধান, পাট, ভুট্টা, গম, সবজি ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে নদী কেন্দ্রিক মৎস্য সম্পদও পুনরুজ্জীবিত হবে। জেলেদের জীবিকা ফিরে আসবে, বাড়বে দেশীয় মাছের উৎপাদন।

এছাড়া পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও উন্নত হবে। বর্তমানে ঈশ্বরদীসহ নদীর তীরবর্তী অনেক এলাকায় গভীর নলকূপেও পানি সংকট দেখা দেয়। ব্যারেজ চালু হলে সেই সংকট অনেকাংশে কমে আসতে পারে। নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, নৌ-যোগাযোগ বৃদ্ধি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং শিল্পকারখানায় পানির ব্যবহারেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পদ্মা নদীতে ব্যারেজ না হলেও পাবনার ঈশ্বরদী অঞ্চলের নদী তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের লাভ কম হবে না বরং সঠিক স্থানে ব্যারেজ হওয়ায় নদীগুলো দীর্ঘমেয়াদে বেশি উপকৃত হবে। শুধু একটি জেলার নয়, পুরো অঞ্চলের টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে।

জানা গেছে, বিএনপি সরকারের  নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের অংশ হিসেবে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যারেজ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বদলে যেতে পারে পাবনা, রাজশাহী ও কুষ্টিয়াসহ ২২ জেলার অর্থনীতি, কৃষি ও মানুষের জীবনযাত্রা। এটি শুধু একটি প্রকল্প নয়, উত্তর-  দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভবিষ্যৎ রক্ষার স্বপ্ন।

কারণ ব্যারেজের অবস্থান রাজবাড়ীতে হলেও এর প্রাণ ফিরে পাবে পাবনার ঈশ্বরদীর পদ্মা নদী  অববাহিত অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি ও অর্থনীতি। এটা বাস্তবায়িত হলে পদ্মা ব্যারেজ হতে পারে উত্তর – দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের বহু বছরের স্বপ্নপূরণের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প।

Facebook Comments Box
শেয়ার করুন: