সংবাদ শিরোনাম :
Logo আত্রাইয়ে বোরো ধান-চাল ও গম সংগ্রহের উদ্বোধন Logo ঈশ্বরদীতে বিষাক্ত কেমিক্যালের গন্ধে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি Logo নওগাঁ চেম্বারের নবায়ন ফি বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ: নির্বাচন দাবিতে প্রশাসকের কাছে ব্যবসায়ীদের আবেদন Logo ঈশ্বরদীতে মালবাহী ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন Logo আমাদের সামর্থ্য সীমাহীন না হলেও নতুন কিছু করা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী Logo নওগাঁয় প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের সাথে ধাক্কা, প্রাণ গেল ২ জনের Logo অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখতে পুলিশের প্রতি নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo আর কোনো স্বৈরাচার যেন পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী Logo কলেজ শিক্ষার্থী ওয়াকিমুলের তৈরি স্মার্ট কারে চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প  বাপাউবো ও কৃষকের গলার কাঁটায় পরিনত হয়েছে

শফিউল আযম, বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১০৯ বার পঠিত
ক্রটিপূর্ণ অবকাটামো নিমার্ণ যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার না করায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে দেশে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন (আইআরডি) প্রকল্প। এতে প্রকল্পটি এখন পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং হাজার হাজার কৃষকের গলার কাঁটায় পরিনত হয়েছে।
এদিকে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কাজে প্রতি বছর প্রায়  প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। কাঙ্ক্ষিত সেচ সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষকেরা। এতে প্রতি বছর কমছে সেচের জমি। সব মিলিয়ে প্রকল্পটি এখন কৃষকের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।
বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এক ফসলী দুই ও দুই ফসলী জমি তিন ফসলীতে রুপান্তর, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সেচ সুবিধার মাধ্যমে কম খরচে কৃষিজ পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালে শুরু হয়ে ১৯৯২ সালে প্রায় ৩৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
বেড়া উপজেলার বৃশালিখা হুড়াসাগর নদীপাড়ে পানি উত্তোলনের জন্য একটি পাম্পিং ষ্টেশন এবং কৈটোলায় যমুনা নদী পাড়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য অপর একটি পাম্পিং ষ্টেশন নির্মাণ করা হয়। এছাড়া নির্মাণ করা হয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, একাধিক রেগুলেটর, কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো।
প্রকল্প কমান্ড এরিয়ায় ১৮ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষ্যে খনন করা হয় সাড়ে ৪২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের প্রধান সেচ ক্যানেল, ১৯টি সেকেন্ডারি ক্যানেল ক্যানেল, ৪৭টি  টারশিয়ারি সেচ ক্যানেল এবং ৪ শতাধিক মাইনর সেচ ক্যানেল। এছাড়া খনন করা হয় একাধিক নিষ্কাশন ক্যানেল।
জানা যায়, ১৯৯২ সালে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হলে অবকাটামোগত নানা ক্রটির কারণে সে সময় মাত্র দুই হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হয়। চলতি বোরো মওসুমে (২০২৬ সালে) মাত্র আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সঠিকভাবে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ করা হয়নি। ক্রটিপূর্ণ অবকাঠামোর কারণে আজ পর্যন্ত অধিকাংশ সেচ ক্যানেল পানির প্রবাহ ঘটানো সম্ভবনা হয়নি। অনেক জায়গায় স্থানীয়রা সেচ ক্যানেল ভরাট করে অবকাঠামো নিমাণ করেছে। আবার কোথাও কোথাও প্রভাবশালীরা ক্যানেল দখল করে মাছচাষ করছে। প্রকল্পের সেচ সুবিধা না পেয়ে হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সেচ প্রকল্পের সেচ সুবিধা প্রাপ্ত কৃষকদের তিনটি ফসল আবাদের জন্য প্রতি বিঘায় সার্ভিস চার্জ দিতে হয় মাত্র ১৮০ টাকা। আর গভীর-অগভীর নলকূপের মাধ্যমে বোরো আবাদে প্রতি বিঘা জমিতে কৃষককে সেচ বাবদ ব্যয় করতে হয় কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকা। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  জনৈক প্রকৌশলী জানান, পাবনা সেচ প্রকল্প এখন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় কৃষকদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। প্রকল্পের শুরুর সময় সেচ অবকাঠামো ক্রটিযুক্ত হওয়ায় বেড়া ও সাঁথিয়া কমান্ড এরিয়ায় মাত্র দুই হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হয়। পরবর্তীতে সেচ অবকাঠামো ক্রটিমুক্ত করে ১৮ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এরপরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের অবকাটামো ক্রটিমুক্ত করার জন্য ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০১ পযর্ন্ত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও জিওবির ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের পকেট ভারি হওয়া ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অথচ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার বাবদ প্রতি বছর ব্যয় করা হয় প্রায় এক কোটি টাকা। এদিকে প্রতি বছরই কমছে সেচের জমি কমছে।
সরেজমিনে সাঁথিয়ার পুণ্ডরিয়া, শামুকজানি, বায়া, পানিশাইল, বেয়াইলমারী, গাগড়াখালি, ছেচানিয়া, বড়গ্রাম, বেড়া উপজেলার চাকলা, দমদমা, খাকছাড়া, মোহনগঞ্জ, হরিরামপুর, নতুন পেঁচাকোলা, মাছখালিসহ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, জমির পাশ দিয়ে যাওয়া সেচ ক্যানেলগুলোতে পানি নেই। দেখে মনে হয় না এগুলো সেচ ক্যানেল। অনেক স্থানে সেচ ক্যনেল মাটির সাথে মিশে গেছে।
পুণ্ডরিয়া গ্রামের কৃষক শরিফুল, লুৎফর, শাহীন, নাসির প্রামাণিকসহ অনেকেই বলেন, এক সময় আমরা সেচ ক্যানেলর পানি দিয়ে সব ধরনের ফসল আবাদ করতাম। নামমাত্র খরচ হতো। এখন পানি সরবরাহ না পাওয়ায় তারা সেচযন্ত্র স্থাপন করে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। এতে তাদের ফসল উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।
সম্প্রতি বেড়া উপজেলার দমদমা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ক্রটির কারণে আই-৩এস-৮ ক্যানেলে গত ৩৫ বছর এবং আই-৩ এস-১ডি-৫ সেচ ক্যানেলে গত ১৫ বছর ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে সেচ ক্যানেলের পাশে গড়ে উঠেছে অনেক স্থাপনা। ক্যানেলের অনেক অনেক জায়গা বেদখল হয়ে গেছে।
বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সংস্কারের জন্য এরইমধ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। এতে বন্ধ সেচ ক্যানেলগুলো যেমন পুনরুজ্জীবিত হবে, তেমনি নতুন নতুন এলাকায় সেচ ক্যানেল নির্মাণ করা হবে। এটা চালু হলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি জমি সেচের আওতায় আনা সম্ভব হবে। তখন ফসল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।
Facebook Comments Box
শেয়ার করুন:

পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প  বাপাউবো ও কৃষকের গলার কাঁটায় পরিনত হয়েছে

আপডেট সময় : ০৬:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ক্রটিপূর্ণ অবকাটামো নিমার্ণ যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার না করায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে দেশে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন (আইআরডি) প্রকল্প। এতে প্রকল্পটি এখন পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং হাজার হাজার কৃষকের গলার কাঁটায় পরিনত হয়েছে।
এদিকে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কাজে প্রতি বছর প্রায়  প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। কাঙ্ক্ষিত সেচ সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষকেরা। এতে প্রতি বছর কমছে সেচের জমি। সব মিলিয়ে প্রকল্পটি এখন কৃষকের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে।
বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এক ফসলী দুই ও দুই ফসলী জমি তিন ফসলীতে রুপান্তর, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সেচ সুবিধার মাধ্যমে কম খরচে কৃষিজ পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালে শুরু হয়ে ১৯৯২ সালে প্রায় ৩৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
বেড়া উপজেলার বৃশালিখা হুড়াসাগর নদীপাড়ে পানি উত্তোলনের জন্য একটি পাম্পিং ষ্টেশন এবং কৈটোলায় যমুনা নদী পাড়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য অপর একটি পাম্পিং ষ্টেশন নির্মাণ করা হয়। এছাড়া নির্মাণ করা হয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, একাধিক রেগুলেটর, কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো।
প্রকল্প কমান্ড এরিয়ায় ১৮ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদানের লক্ষ্যে খনন করা হয় সাড়ে ৪২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের প্রধান সেচ ক্যানেল, ১৯টি সেকেন্ডারি ক্যানেল ক্যানেল, ৪৭টি  টারশিয়ারি সেচ ক্যানেল এবং ৪ শতাধিক মাইনর সেচ ক্যানেল। এছাড়া খনন করা হয় একাধিক নিষ্কাশন ক্যানেল।
জানা যায়, ১৯৯২ সালে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হলে অবকাটামোগত নানা ক্রটির কারণে সে সময় মাত্র দুই হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হয়। চলতি বোরো মওসুমে (২০২৬ সালে) মাত্র আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সঠিকভাবে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ করা হয়নি। ক্রটিপূর্ণ অবকাঠামোর কারণে আজ পর্যন্ত অধিকাংশ সেচ ক্যানেল পানির প্রবাহ ঘটানো সম্ভবনা হয়নি। অনেক জায়গায় স্থানীয়রা সেচ ক্যানেল ভরাট করে অবকাঠামো নিমাণ করেছে। আবার কোথাও কোথাও প্রভাবশালীরা ক্যানেল দখল করে মাছচাষ করছে। প্রকল্পের সেচ সুবিধা না পেয়ে হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, সেচ প্রকল্পের সেচ সুবিধা প্রাপ্ত কৃষকদের তিনটি ফসল আবাদের জন্য প্রতি বিঘায় সার্ভিস চার্জ দিতে হয় মাত্র ১৮০ টাকা। আর গভীর-অগভীর নলকূপের মাধ্যমে বোরো আবাদে প্রতি বিঘা জমিতে কৃষককে সেচ বাবদ ব্যয় করতে হয় কমপক্ষে পাঁচ হাজার টাকা। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  জনৈক প্রকৌশলী জানান, পাবনা সেচ প্রকল্প এখন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় কৃষকদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। প্রকল্পের শুরুর সময় সেচ অবকাঠামো ক্রটিযুক্ত হওয়ায় বেড়া ও সাঁথিয়া কমান্ড এরিয়ায় মাত্র দুই হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হয়। পরবর্তীতে সেচ অবকাঠামো ক্রটিমুক্ত করে ১৮ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এরপরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের অবকাটামো ক্রটিমুক্ত করার জন্য ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০১ পযর্ন্ত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও জিওবির ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের পকেট ভারি হওয়া ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অথচ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার বাবদ প্রতি বছর ব্যয় করা হয় প্রায় এক কোটি টাকা। এদিকে প্রতি বছরই কমছে সেচের জমি কমছে।
সরেজমিনে সাঁথিয়ার পুণ্ডরিয়া, শামুকজানি, বায়া, পানিশাইল, বেয়াইলমারী, গাগড়াখালি, ছেচানিয়া, বড়গ্রাম, বেড়া উপজেলার চাকলা, দমদমা, খাকছাড়া, মোহনগঞ্জ, হরিরামপুর, নতুন পেঁচাকোলা, মাছখালিসহ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, জমির পাশ দিয়ে যাওয়া সেচ ক্যানেলগুলোতে পানি নেই। দেখে মনে হয় না এগুলো সেচ ক্যানেল। অনেক স্থানে সেচ ক্যনেল মাটির সাথে মিশে গেছে।
পুণ্ডরিয়া গ্রামের কৃষক শরিফুল, লুৎফর, শাহীন, নাসির প্রামাণিকসহ অনেকেই বলেন, এক সময় আমরা সেচ ক্যানেলর পানি দিয়ে সব ধরনের ফসল আবাদ করতাম। নামমাত্র খরচ হতো। এখন পানি সরবরাহ না পাওয়ায় তারা সেচযন্ত্র স্থাপন করে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। এতে তাদের ফসল উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।
সম্প্রতি বেড়া উপজেলার দমদমা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ক্রটির কারণে আই-৩এস-৮ ক্যানেলে গত ৩৫ বছর এবং আই-৩ এস-১ডি-৫ সেচ ক্যানেলে গত ১৫ বছর ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে সেচ ক্যানেলের পাশে গড়ে উঠেছে অনেক স্থাপনা। ক্যানেলের অনেক অনেক জায়গা বেদখল হয়ে গেছে।
বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সংস্কারের জন্য এরইমধ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। এতে বন্ধ সেচ ক্যানেলগুলো যেমন পুনরুজ্জীবিত হবে, তেমনি নতুন নতুন এলাকায় সেচ ক্যানেল নির্মাণ করা হবে। এটা চালু হলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি জমি সেচের আওতায় আনা সম্ভব হবে। তখন ফসল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।
Facebook Comments Box
শেয়ার করুন: