সংবাদ শিরোনাম :
Logo আত্রাইয়ে বোরো ধান-চাল ও গম সংগ্রহের উদ্বোধন Logo ঈশ্বরদীতে বিষাক্ত কেমিক্যালের গন্ধে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি Logo নওগাঁ চেম্বারের নবায়ন ফি বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ: নির্বাচন দাবিতে প্রশাসকের কাছে ব্যবসায়ীদের আবেদন Logo ঈশ্বরদীতে মালবাহী ট্রেনের ধাক্কায় যুবক নিহত Logo রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন Logo আমাদের সামর্থ্য সীমাহীন না হলেও নতুন কিছু করা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী Logo নওগাঁয় প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের সাথে ধাক্কা, প্রাণ গেল ২ জনের Logo অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখতে পুলিশের প্রতি নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo আর কোনো স্বৈরাচার যেন পুলিশকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী Logo কলেজ শিক্ষার্থী ওয়াকিমুলের তৈরি স্মার্ট কারে চড়লেন প্রধানমন্ত্রী

সখ থেকেই আয়ের পথ

সারাবেলা সংবাদ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৭:০৪:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১৭ বার পঠিত
সখ করে ৪ জোড়া দেশী কবুতর পালতে শুরু করেন ইমরান হোসেন। প্রায় ১৬ মাসে সাফল্য পেয়ে বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ৩০০ জোড়া দেশী বিদেশি জাতের কবুতর। সাথে রয়েছে অষ্ট্রোলিয়া ও ফ্রিজিয়ান গরু ও ২০০ জোড়া বিভিন্ন জাতের সৌখিন পাখি। দেশি- বিদেশি কবুতর ও গরুতে সাফল্য পেয়ে সৌখিন পাখি পালতে শুরু করেন তিনি। তার খামার দেখাশুনা করেন তারা স্বামী স্ত্রী মিলেই।
ইমরান হোসেন এর বাড়ি সৈয়দপুর শহরের ৮ নং ওয়ার্ডের বাংগালী পুর নীজ পাড়ায়। সৈয়দপুর রেলওয়ে পাওয়ার হাউজ থেকে অবসরে যাওয়ার পর বাবা এলাহি বক্স মারা যাওয়ায় পর  প্রায় ৫ বছর থেকে পশু পাখি পালন করছেন ইমরান।
ইমরান হোসেন বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর ৪ জোড়া কবুতর নিয়ে পালন শুরু করেন তিনি। এরপর বিদেশি কবুতর ও নিয়ে আসেন তার খামারে। নিয়মিত খাদ্য  ও ঔষধ প্রয়োগে কবুতরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তার বাড়িতে পরিনত হয় খামার বাড়ি হিসেবে। সেখানে রয়েছে গিরিবাজ,লোটন,লখনা,হেলমেট, চিলা ময়না জ্যাক সহ বিভিন্ন জাতের কবুতর। নিজ খামারে পালিত একজোড়া কবুতর বাচ্চা বিক্রি করছেন, ৬০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।
কবুতর খামারের সাথেই একটি বিশাল মাপের ঘর করা হয়েছে দেশি ও বিদেশি গরু পালনের জন্য।  পাশেই রয়েছে সৌখিন পাখি পালনের জন্য নেট দিয়ে ঘেরা একটি ঘর। সেখানে ২০০ জোড়া সৌখিন পাখি পালন করে ভিষন লাভবান হয়েছেন ইমরান। তিনি বলেন, একজোড়া পাখি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকায়। ২০০ জোড়া সৌখিন পাখি ৪০ দিন পর বাচ্চা দেয় প্রায় ৭০-৮০ জোড়া বাচ্চা। সে হিসেবে গড়ে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হয় সেগুলি। ইমরান বলেন, ৩০০ জোড়া কবুতর, দেশি- বিদেশি গরু ও ২০০ জোড়া সৌখিন পাখি পালন করে খরচ হয় মাসে ৩০ হাজার টাকা। আর আয় হচ্ছে প্রতিমাসে কমপক্ষে ৫০-৬০ হাজার টাকা। কোন মাসে ৮০ হাজার টাকা ও আয় হয়।এই আয় দিয়ে ২ সন্তানের পড়াশুনার পাশাপাশি সংসার খরচে কোন অভাব থাকছে না।
ইমরান বলেন, দেশে বেকার শিক্ষিত যুবকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সরকার যদি আমাদের মত খামারি ও বেকার যুবকদের এককালীন ১৫-২০ লাখ টাকা করে লোন দিতো, তাহলে কোন যুবকই চাকরির পিছনে ছুটতো না। আর তাদের খামারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো অনেক মানুষের।
শহরের কাজি পাড়া এলাকার বাবু নামের এক যুবক জানায়, গত ২ বছর আগে ইমরান হোসেন এর খামার দেখে পাখি পালন করার আগ্রহ জাগে। ওই বছরই তাঁর কাছ থেকে ২০ জোড়া সৌখিন পাখি নিয়ে পালন শুরু করি। সেই থেকে বর্তমানে আমার খামার পাখি দিয়ে ভরে গেছে। সাথে কোয়েল পাখিও রেখেছি। মাত্র ২ বছরে যা আয় হয়েছে, তাতে চাকরি করেও আয় করতে পারতাম না বলে জানান তিনি।
উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক বলেন,আমার জানা মতে,ইমরানের গরুর খামার রয়েছে। তার খামার দেখে তাঁকে পুরস্কৃত ও করা হয়েছে। কবুতর ও পাখির খামারের কথা শুনেছি কিন্তু দেখা হয়নি। ইমরানের কবুতর ও সৌখিন পাখির খামার দেখে পছন্দ হলে সাধ্যমত সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।
Facebook Comments Box
শেয়ার করুন:
ট্যাগস :

সখ থেকেই আয়ের পথ

আপডেট সময় : ০৭:০৪:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
সখ করে ৪ জোড়া দেশী কবুতর পালতে শুরু করেন ইমরান হোসেন। প্রায় ১৬ মাসে সাফল্য পেয়ে বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ৩০০ জোড়া দেশী বিদেশি জাতের কবুতর। সাথে রয়েছে অষ্ট্রোলিয়া ও ফ্রিজিয়ান গরু ও ২০০ জোড়া বিভিন্ন জাতের সৌখিন পাখি। দেশি- বিদেশি কবুতর ও গরুতে সাফল্য পেয়ে সৌখিন পাখি পালতে শুরু করেন তিনি। তার খামার দেখাশুনা করেন তারা স্বামী স্ত্রী মিলেই।
ইমরান হোসেন এর বাড়ি সৈয়দপুর শহরের ৮ নং ওয়ার্ডের বাংগালী পুর নীজ পাড়ায়। সৈয়দপুর রেলওয়ে পাওয়ার হাউজ থেকে অবসরে যাওয়ার পর বাবা এলাহি বক্স মারা যাওয়ায় পর  প্রায় ৫ বছর থেকে পশু পাখি পালন করছেন ইমরান।
ইমরান হোসেন বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর ৪ জোড়া কবুতর নিয়ে পালন শুরু করেন তিনি। এরপর বিদেশি কবুতর ও নিয়ে আসেন তার খামারে। নিয়মিত খাদ্য  ও ঔষধ প্রয়োগে কবুতরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তার বাড়িতে পরিনত হয় খামার বাড়ি হিসেবে। সেখানে রয়েছে গিরিবাজ,লোটন,লখনা,হেলমেট, চিলা ময়না জ্যাক সহ বিভিন্ন জাতের কবুতর। নিজ খামারে পালিত একজোড়া কবুতর বাচ্চা বিক্রি করছেন, ৬০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।
কবুতর খামারের সাথেই একটি বিশাল মাপের ঘর করা হয়েছে দেশি ও বিদেশি গরু পালনের জন্য।  পাশেই রয়েছে সৌখিন পাখি পালনের জন্য নেট দিয়ে ঘেরা একটি ঘর। সেখানে ২০০ জোড়া সৌখিন পাখি পালন করে ভিষন লাভবান হয়েছেন ইমরান। তিনি বলেন, একজোড়া পাখি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকায়। ২০০ জোড়া সৌখিন পাখি ৪০ দিন পর বাচ্চা দেয় প্রায় ৭০-৮০ জোড়া বাচ্চা। সে হিসেবে গড়ে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হয় সেগুলি। ইমরান বলেন, ৩০০ জোড়া কবুতর, দেশি- বিদেশি গরু ও ২০০ জোড়া সৌখিন পাখি পালন করে খরচ হয় মাসে ৩০ হাজার টাকা। আর আয় হচ্ছে প্রতিমাসে কমপক্ষে ৫০-৬০ হাজার টাকা। কোন মাসে ৮০ হাজার টাকা ও আয় হয়।এই আয় দিয়ে ২ সন্তানের পড়াশুনার পাশাপাশি সংসার খরচে কোন অভাব থাকছে না।
ইমরান বলেন, দেশে বেকার শিক্ষিত যুবকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সরকার যদি আমাদের মত খামারি ও বেকার যুবকদের এককালীন ১৫-২০ লাখ টাকা করে লোন দিতো, তাহলে কোন যুবকই চাকরির পিছনে ছুটতো না। আর তাদের খামারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো অনেক মানুষের।
শহরের কাজি পাড়া এলাকার বাবু নামের এক যুবক জানায়, গত ২ বছর আগে ইমরান হোসেন এর খামার দেখে পাখি পালন করার আগ্রহ জাগে। ওই বছরই তাঁর কাছ থেকে ২০ জোড়া সৌখিন পাখি নিয়ে পালন শুরু করি। সেই থেকে বর্তমানে আমার খামার পাখি দিয়ে ভরে গেছে। সাথে কোয়েল পাখিও রেখেছি। মাত্র ২ বছরে যা আয় হয়েছে, তাতে চাকরি করেও আয় করতে পারতাম না বলে জানান তিনি।
উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক বলেন,আমার জানা মতে,ইমরানের গরুর খামার রয়েছে। তার খামার দেখে তাঁকে পুরস্কৃত ও করা হয়েছে। কবুতর ও পাখির খামারের কথা শুনেছি কিন্তু দেখা হয়নি। ইমরানের কবুতর ও সৌখিন পাখির খামার দেখে পছন্দ হলে সাধ্যমত সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।
Facebook Comments Box
শেয়ার করুন: