সংবাদ শিরোনাম :
Logo মে মাসে ৬১৩ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬২২, আহত ১৬৫২: যাত্রী কল্যাণ সমিতি Logo কক্সবাজারে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo অলিগার্কদের ধ্বংস করা সরকারের লক্ষ্য: মির্জা ফখরুল Logo ক্রিকেটার নাঈমকে নির্যাতন : ৩ পুলিশ প্রত্যাহার Logo বিরোধীদলের উদ্দেশ্য অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি ও মানুষকে বিভ্রান্ত করা: প্রধানমন্ত্রী Logo মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব Logo মানুষের প্রত্যাশা হচ্ছে-রাষ্ট্রের একটা কানাকড়ি নয়-ছয় না হোক: অ্যাটর্নি জেনারেল Logo স্বামীর সাথে ঢাকায় গিয়ে গৃহবধূ নিখোঁজ , স্বামীর ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ ভুক্তভোগী পরিবারের Logo মালয়েশিয়া প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেফতার ২ Logo শেকৃবিতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

শুধু লভ্যাংশে কর বসানোর পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের

কমেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক,ঢাকা
  • আপডেট সময় : ১২:১০:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ ৫ বার পঠিত

গত ১১ মাসে আগের অর্থবছরের তুলনায় তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। এর সাথে যুক্ত হয়েছে মার্কিন নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব। এমন পরিস্থিতিতে খাতটিকে টিকিয়ে রাখতে বাজেটে উৎসে কর কমানোর দাবি ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি বাজেটের ঘাটতি নিয়েও তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। এদিকে রপ্তানি মূল্যের ওপর নয়, বরং শুধু লভ্যাংশের ওপর কর বসানোর পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।

অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নানা কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের তৈরি পোশাক খাত। গত মে মাসে তৈরি পোশাক শিল্পে মোট রপ্তানি হয়েছে ৩৫৯ কোটি ৪১ লাখ ডলারের পণ্য।

এর মধ্যে নিটওয়্যার থেকে ১৯৬ কোটি ৯৩ লাখ ডলার ও ওভেন থেকে ১৬২ কোটি ৪৮ লাখ ডলার এসেছে, যা এপ্রিল মাসের তুলনায় ১৪ শতাংশের বেশি হলেও গত বছরের এই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ কম।

এদিকে গত ১১ মাসে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কম।

অন্যদিকে, ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব। শ্রমমান পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয় এমন অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের উপর ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য অধিদপ্তর। এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে আঘাত আসবে দেশের পোশাক শিল্পের উপর।

এমন বাস্তবতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদে। আসছে বাজেটে তৈরি পোশাক শিল্পে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন ব্যাবসায়ীরা।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘এআইটিটা আমরা বলেছিলাম ১ শতাংশের জায়গায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করে আগামী ৫ বছরের জন্য এটাকে ফিক্স করা, আর টিডিএস বন্ধ করা। এটার ক্ষেত্রে তো আরেকজনের কর আমাকে দিতে হচ্ছে।’

অন্যদিকে, ঘাটতি বাজেটের চাপ বেশি হলে, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বাড়বে সরকারের ঋণগ্রহণ। বঞ্চিত হবে বেসরকারিখাত, যা তৈরি পোশাক শিল্পেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, ‘যখন এনবিআর ৬ লাখ ৯৫ হাজার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নামবে, তখন আমাদের আতঙ্কিত না হওয়ার কোনো কারণ নেই, কোনো উপায় নেই। কারণ, আমরা মনে করছি, আমাদের ওপরই চাপটা বাড়বে।’

এদিকে, রপ্তানি মূল্যের পরিবর্তের আয় বা লাভের ওপর কর আরোপের পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এছাড়া বিদ্যমান ব্যবস্থায় উৎসে কর সমন্বয়ের ব্যবস্থা আরও সহজ করার তাগিদ দেন তারা।

অর্থনীতিবিদ মাশরুর রিয়াজ বলেন, ‘আমি যখন রেভিনিউয়ের ওপর ট্যাক্স দিচ্ছি, এটা একদিকে ট্যাক্স প্রিন্সিপলকে ভায়োলেট করে, আরেকদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর যে ট্যাক্সের বোঝা, সেটা অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘১০০ টাকার ওপর আপনি প্রথমেই ট্যাক্স নিয়ে নিচ্ছেন। ইফেক্টিভ ট্যাক্স ইনসিডেন্স বা বোঝা অনেক বেড়ে যায়। সুতরাং এটা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে আসলে। রেভিনিউয়ের ওপর ট্যাক্সেশন করা যাবে না আর বেরিয়ে আসার আগ পর্যন্ত যতদিন এটা থাকবে, সমন্বয় করা বা ট্যাক্স ক্রেডিট এই ধরনের ব্যবস্থার প্রচলন করতে হবে।’

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। এমন অবস্থায় তৈরি পোশাক খাতের প্রধান দুই গন্তব্য ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।

তাই তৈরি পোশাকশিল্পকে শুধু নীতি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে, দক্ষতা বাড়িয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box
শেয়ার করুন:
ট্যাগস :

শুধু লভ্যাংশে কর বসানোর পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের

কমেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি

আপডেট সময় : ১২:১০:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

গত ১১ মাসে আগের অর্থবছরের তুলনায় তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। এর সাথে যুক্ত হয়েছে মার্কিন নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব। এমন পরিস্থিতিতে খাতটিকে টিকিয়ে রাখতে বাজেটে উৎসে কর কমানোর দাবি ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি বাজেটের ঘাটতি নিয়েও তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। এদিকে রপ্তানি মূল্যের ওপর নয়, বরং শুধু লভ্যাংশের ওপর কর বসানোর পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।

অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নানা কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের তৈরি পোশাক খাত। গত মে মাসে তৈরি পোশাক শিল্পে মোট রপ্তানি হয়েছে ৩৫৯ কোটি ৪১ লাখ ডলারের পণ্য।

এর মধ্যে নিটওয়্যার থেকে ১৯৬ কোটি ৯৩ লাখ ডলার ও ওভেন থেকে ১৬২ কোটি ৪৮ লাখ ডলার এসেছে, যা এপ্রিল মাসের তুলনায় ১৪ শতাংশের বেশি হলেও গত বছরের এই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ কম।

এদিকে গত ১১ মাসে ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কম।

অন্যদিকে, ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব। শ্রমমান পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয় এমন অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের উপর ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য অধিদপ্তর। এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে আঘাত আসবে দেশের পোশাক শিল্পের উপর।

এমন বাস্তবতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদে। আসছে বাজেটে তৈরি পোশাক শিল্পে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন ব্যাবসায়ীরা।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘এআইটিটা আমরা বলেছিলাম ১ শতাংশের জায়গায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করে আগামী ৫ বছরের জন্য এটাকে ফিক্স করা, আর টিডিএস বন্ধ করা। এটার ক্ষেত্রে তো আরেকজনের কর আমাকে দিতে হচ্ছে।’

অন্যদিকে, ঘাটতি বাজেটের চাপ বেশি হলে, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বাড়বে সরকারের ঋণগ্রহণ। বঞ্চিত হবে বেসরকারিখাত, যা তৈরি পোশাক শিল্পেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, ‘যখন এনবিআর ৬ লাখ ৯৫ হাজার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নামবে, তখন আমাদের আতঙ্কিত না হওয়ার কোনো কারণ নেই, কোনো উপায় নেই। কারণ, আমরা মনে করছি, আমাদের ওপরই চাপটা বাড়বে।’

এদিকে, রপ্তানি মূল্যের পরিবর্তের আয় বা লাভের ওপর কর আরোপের পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এছাড়া বিদ্যমান ব্যবস্থায় উৎসে কর সমন্বয়ের ব্যবস্থা আরও সহজ করার তাগিদ দেন তারা।

অর্থনীতিবিদ মাশরুর রিয়াজ বলেন, ‘আমি যখন রেভিনিউয়ের ওপর ট্যাক্স দিচ্ছি, এটা একদিকে ট্যাক্স প্রিন্সিপলকে ভায়োলেট করে, আরেকদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর যে ট্যাক্সের বোঝা, সেটা অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়।’

তিনি বলেন, ‘১০০ টাকার ওপর আপনি প্রথমেই ট্যাক্স নিয়ে নিচ্ছেন। ইফেক্টিভ ট্যাক্স ইনসিডেন্স বা বোঝা অনেক বেড়ে যায়। সুতরাং এটা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে আসলে। রেভিনিউয়ের ওপর ট্যাক্সেশন করা যাবে না আর বেরিয়ে আসার আগ পর্যন্ত যতদিন এটা থাকবে, সমন্বয় করা বা ট্যাক্স ক্রেডিট এই ধরনের ব্যবস্থার প্রচলন করতে হবে।’

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি। এমন অবস্থায় তৈরি পোশাক খাতের প্রধান দুই গন্তব্য ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।

তাই তৈরি পোশাকশিল্পকে শুধু নীতি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে, দক্ষতা বাড়িয়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও খাত সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box
শেয়ার করুন: