সংবাদ শিরোনাম :
পাবনার বেড়ায় আওয়ামী সন্ত্রসীদের হামলায় বিএনপির ৩ নেতা আহত
শফিউল আযম, বেড়া ( পাবনা) প্রতিনিধি ঃ
- আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ ১৩৯০ বার পঠিত

পাবনার বেড়া উপজেলার ডাকবাংলার হুগাসাগর নদীতে বৃহস্পতিবার (২১ মে) গভীর রাতে পতিত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় পৌর বিএনপির তিন নেতা আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন, বেড়া পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি সহ-সভাপতি হাতিগাড়ার সহিদুল ইসলাম(৫৭) , ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নতুন পাড়ার নজরুল ইসলাম (৫৬) ও যুবদল নেতা বনগ্রামের লিটন হোসেন (৪৮)।
বেড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) নিতাই চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ডাকবাংলা ঘাটের অন্য একটা দিক আছে, যা সাদা চোখে দেখা যায় না। এ ঘাটি চোরাচালান ও জ্বালানী তেল পাচারের হটস্পট হিসেবে পরিচিত। যখন যে দল ক্ষমতায় যায় সেই দল ঘাটের নিয়ন্ত্রন নেয়। জ্বালানী তেল পাচারকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। আর বৃশালিখা গ্রামের মোমিন তেল পাচার সিন্ডকেটের মূলহোতা জানা গেছে।
ডাকবাংলা ঘাটের আহত ইজারাদার সহিদুল ইসলামের (৫৭) বক্তব্য, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে ঘাটে বসে তিনিসহ অপর দুই অংশীদার নজরুল ও লিটনকে নিয়ে ঘাটের বিষয়ে কথাবার্তা বলছিলাম। এ সময় নৌকা যোগে স্থানীয় সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর, নাসির, সোহেলের নেতৃত্বে ১০/১৫ জনের একদল সন্ত্রাসী তাদেরকে টেনেহেচরে নৌকায় তুলে হুড়াসাগর নদীর মাঝে নিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। এসময় লিটন নদীতে ঝাপ দিয়ে ঘাটে ফিরে আসতে সক্ষম হন। সন্ত্রাসীরা তাকে ও নজরুলকে নদীর ওপারে শাহজাদপুর উপজেলার চরবর্ণিয়াতে নিয়ে চোখ বেঁধে এলোপাথাড়ি ভাবে কোপায়ে মারাত্মক ভাবে যখম করেন । একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা তাদেরকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। পরে নদীর এপার থেকে লোকজন গিয়ে তাদেরকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে বেড়া হাসপাতাল ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সহিদুলকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল পাঠানো হয়। আহত নজরুল, ও লিটন বেড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনার শাসনামলে বেড়ার কাগমার পাড়ার তার এপিএস সালাউদ্দিনের চাচাতে ভাই হাজী ইকবাল দীর্ঘ ১৭ বছর ডাকবাংলা ঘাট নিয়ন্ত্রণ করতেন। ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানে পর ঘাটটি নিয়ন্ত্রন চলে যায় বর্তমান শাসক দলের নেতাকর্মীদের হাতে। তবে হাজী ইকবাল ডাকবাংলা নৌঘাট নিয়ন্ত্রণে নিতে বিভিন্ন সময় অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। এই ঘাট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশ কয়েক বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতরাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে, তবে এর নেপথ্যে অন্য কোন রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে বলে একাধিক সুত্র জানিয়েছে।
বেড়া থানা সংলগ্ন কাগমার পাড়ার বাসিন্দা হাজী ইকবালের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিক যোগাযোগের চেষ্টা করে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
Facebook Comments Box

















